ব্রেকিং নিউজ

সালথায় গুজব ছড়িয়ে তাণ্ডব, নিহত ১

editor ৮ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয় সারাদেশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি :০৬ এপ্রিল, ২০২১,মঙ্গলবার।

পুলিশের গুলিতে কয়েকজনের মৃত্যু ও দুই মাওলানা গ্রেপ্তারের করে নির্যাতনের গুজব ছড়িয়ে হামলা চালিয়ে ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা কমপ্লেক্স ও এসি ল্যান্ড অফিস তছনছ ও অগ্নিসংযোগ করে একটিচক্র । সোমবার রাত ৮ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডের গাড়ি, তিনটি মোটর সাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা) কোন মামলা দায়ের না হলেও তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারিরা তিন ঘন্টা ব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তাদের এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলা কমপ্লেক্স এর গাছপালা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ নানা স্থাপনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশের পাশা-পাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা পুলিশ সদস্যসহ র‌্যাব, আনসার সদস্যরা ৫৮৮ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২ টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি সোড়ে।

এসময় আইশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্য সহ আহত হন কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি। আহতদের মধ্যে স্থানীয় রামকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ জুবায়ের হোসেন (২০) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, ঘটনাস্থল ও আশ পাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যাক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

সালথার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিব সরকার বলেন, ‘গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা পালন করতে সোমবার বিকালে ওই বাজারে যান সহকারি কমিশনার (ভূমি)। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। এমতবস্থায় তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে আসেন এবং সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠান। পুলিশ যাওয়ার পর স্থানীয়দের সাথে পুলিশের বাক বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের এস আই মিজানুর রহমানের উপর হামলা চালান স্থানীয়রা। হামলায় মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ চলা আসার পর স্থানীয় একটিচক্র গুজব রটায় পুলিশের গুলিতে স্থানীয় কয়েক জনের মৃত্যু ও বাহিরদিয়া মাদ্রাসার দুই মাওলানাকে গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে মারপিট করা হচ্ছে।’

এমন গুজবে হাজারো মানুষ এসে থানা ঘেরাও করে। পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ী ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্র পরিনত হয়।

সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর জানান, সুপরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, মিথ্যা গুজবেই মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রিয় সম্পদ রক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশের পাশা-পাশি আশে-পাশের থানা থেকে পুলিশ সদস্য সহ র‌্যাব, আনসার সদস্যরা ৫৮৮ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস গান, ২২ টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি সোড়ে ।

তিনি বলেন, আইশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ সদস্য সহ আহত হন কমপক্ষে ২০ ব্যক্তি। আহতদের মধ্যে স্থানীয় রামকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আশরাফ আলীর ছেলে হাফেজ জুবায়ের হোসেন (২০) নামের এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি আরো বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে আমরা তিন জনকে আটক করেছি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

সম্প্রতি সংবাদ