মানিকগঞ্জে সুর্যমুখী ফুল নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদেরকৃষকদের চোখেমুখে হাঁসির ঝিলিক

editor ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোটার:-০৭ এপ্রিল-২০২১,বুধবার।
মানিকগঞ্জে সূর্যমূখী ফুল দেখতে দর্শনার্থীরা ভির করছে কৃষি জমিতে। হলুদ রংয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মন ভরে উঠে। গ্রামের দিগন্তজোরা মাঠে সেজেছে হলুদের সমারোহ। যতদুর দৃষ্টি যায় শুধু হলুদের মাখামাখি। সরিষার পরিবর্তে সূর্যমূখী ফুল চাষে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষক তার জমিতে সূর্যমূখী ফুল চাষ করেছে। মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে সূর্যমুখী আবাদ জনপ্রিয়তা হয়ে উঠেছে। কম খরচে আর স্বল্প খরচে ভালো লাভ পাওয়ায় তাদের চোখেমুখে হাঁসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। সয়াবিনের চেয়ে সূর্যমুখী তেল বেশি পুষ্টিগুণসম্পর্ন। আর্থিকভাবে লাভজনক হবার দরুন এ ফুলের চাহিদা বেড়ে চলছে। সুন্দর ও বড় রড় ফুল নজর কেড়েছে ফুল প্রেমীদের। সঙ্গে দিচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এসব এলাকাগুলোতে এখন সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিরা বেড়াতে আসছে প্রতিদিন। তারা অপরুপ সোন্দর্য ধরে রাখার জন্য ক্যামেরা বন্দি করে রাখছেন। যুবক যুবতি, কিশোর কিশোরি থেকে শুরু করে প্রকৃতি প্রেমি সকল শ্রেণির এই অপরুপ দুশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। এই নজরকারা ফুল দেখতে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা জরো হচ্ছে সূর্যমূখী ফুল ক্ষেতগুলোতে। কারন ফুলের মধ্যেই বীজ। আর সেই দৃষ্টি করা ফুলের মধ্যে কেইবা সেলফি, কেউবা স্বজন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছবি তুলতে ভিড় করছে সব বয়সের নারী পুরুষ।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বাইলজুরিতে কৃষক আসাদুজ্জামান সরিষা রোপনের পরিবর্তে এবার আড়াইবিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফুলের ফলন খুব ভাল হয়েছে। মনকাড়া রং এবং ফুলের সৌন্দর্যের কথা শুনে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ফুল দেখতে ভির করছে জমিতে। দর্শকদের পায়ে পদদলিত হয়ে অনেক ফুল ও ফুলের গাছ নষ্টও হচ্ছে। তবে জমির মালিক এতে বাধা দিচ্ছেন না। বরং দর্শনার্থীর আগমনে তিনিও আনন্দিত। ফুলচাষে সরিষার চেয়ে দ্বিগুন লাভ হওয়ায় আগামীতে বেশী করে সূর্যমুখী ফুল চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি। আর দর্শনার্থীরা বলছেন আগে কখনো এতো সুন্দর ফুল তারা দেখেননি। তাই বাব বার দেখতে আসেন। ফুলচাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় আগামীতে অধিক জমিতে সুর্যমুখী ফুল চাষের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। সেই সাথে ফুলপ্রেমীরা খুজে পাবে নতুন ঠিকানা। তিনি আরো বলেন, এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। সামান্য রাসায়নিক সার আর ২ বার সেচ দিয়ে দিতে হয়। নভেম্বর, ডিসেম্বর বীজ বপন করার পরে ৯০ থেকে ৯৫ দিনেইর মধ্যেই বীজ তোলা য়ায়। প্রতি বিঘাতে আয় হয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আবার সূর্যমুখী ফুলের গাছ জ¦ালানী হিসাবে ব্যবহার করা যায়। অন্য ফসলের চেয়ে খরচ কম লাভ বেশি হবার কারনে ফুলের চাষ বেড়ে গেছে। আগামী মৌসুমে চাষের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে বলে সাধারন কৃষকেরা জানান। উপজেলার বিভিন্ন এলাকতে সূর্যমুখী চাষের বড় অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। কারন ফুলের মধ্যেই বীজ। সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসা রুমী ও ঝিনুক বলেন আমরা মানিকগঞ্জ শহরের কলেজে পড়ি । শহরে দেখার মতো কিছুই নাই। নেই কোন ধরনের পার্ক বা বিনোদনের জায়গা লোক মুখে শুনে এখতে এসেছি। যা শুনেছি তার চেয়ে অনেক বেশী সুন্দর এই সূর্যমুখী ফুলক্ষেত। প্রায় ১২ কিলোমিটার দুর থেকে এসেছি। আমরা আবার আসবো।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক(খামারবাড়ি) মোঃ শাহজাহান আলী সাংবাদিকদের জানান, ২০২০-২১ অর্থ বছরে বারি সূর্যিমুখী-৩ জাতের বীজ কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। তেল জাতীয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী বীজে তেলের পরিমান প্রায় ৪০ শতাংশ। সূর্যমুখী বীজের তেল অন্যান্য সাধারন তেলের চেয়ে পুষ্টিকর। কোলেস্টরেলমুক্ত সূর্যমুখীর তেলের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। মানিকগঞ্জের চলতি মৌসুমে ৭৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে। সূর্যমুখী আবাদ জনপ্রিয় করার লক্ষ নিয়েই এলাকার সাধারন কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সূর্যমুখীর তেল রপ্তানী করে অর্থনৈতিকভাবে অনেক কৃষকদের স্বাবলম্বী হবে। আগামী বছরে এর আবাদ আরো বেড়ে যাবে বলে নিতে জানিয়েছেন।

 

সম্প্রতি সংবাদ