​৭ দিন ধরে ঘরে তালা গোয়ালন্দে সংসার পেতে অসহায় নারীর আকুতি

editor ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শরিফুল ইসলাম বাচ্চু, গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:​০৯ এপ্রিল-২০২১,শুক্রবার।

বউয়ের টাকায় ঘর-বাড়ি করার পর এখন সেই ঘরবাড়ি হতেই বউকে তাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী -শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে। তারা ওই ঘরে গত ৭ দিন ধরে তালা লাগিয়ে রেখেছে। অসহায় স্ত্রী পাগলের মতো ঘুরছেন।

ঘটনাটি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া হোসেন মন্ডলের পাড়ায়। অভিযুক্ত স্বামী ওই গ্রামের মৃত মমিন ফকিরে ছোট ছেলে মিন্টু ফকির(২৮)।

মিন্টুর স্ত্রীর (২১) বাবার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়।৬ বছর আগে সে পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আসে।তারপর হতেই মিন্টুর সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের জুন মাসে তাদের বিয়ে হয়।এর আগে মিন্টু বিগত ৫ বছরে তার স্ত্রীর কাছ থেকে অন্তত ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজের বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পদ করে।
সম্প্রতি ঠুনকো অভিযোগে মিন্টু তাকে গোপনে এক তরফা ভাবে তালাক দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

সরেজমিন আলাপকালে অসহায় গৃহবধূ জানান, মিন্টু আমাকে বিয়ে করে বাড়ীতে নিয়ে যাবার কথা বলে টানা ৫ বছর আমার কাছ থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়েছে।আমিও সরল বিশ্বাসে একটা সংসার পাবার আশায় তার জন্য সবকিছু করি।জীবনের সমস্ত সঞ্চয় অন্তত ২৫ লাখ টাকা ধাপে ধাপে তার হাতে তুলে দেই।

সে আমার টাকায় তাদের নিচু খাল ভরাট করে এবং সেখানে একটি বড় পাকা ঘর তুলে। এরপর সে আমাকে পতিতালয় থেকে গ্রামে নিয়ে এসে সমাজের মাতবরদের উপস্থিতিতে বিয়ে করে।প্রায় দেড় বছর সংসার করার পর সে গর্ভবতী হলে বাচ্চা ডেলিটারী করাতে খুলনা মায়ের বাড়ীতে যান। সেখানে আদ্বীন ক্লিনিকে তার পেট থেকে মরা বাচ্চা ডেলিভারী হয়। সে সময় তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি মিন্টু ফকির ও তার পরিবারের কেউ। এক মাস মায়ের বাড়ী থাকার পর সে গত ২ এপ্রিল তার স্বামীর কাছে চলে আসে। বাড়ীতে আসার পর মিন্টু দুইদিন তার সাথে থাকার পর বলে আমি তোমার তালাক দিয়েছি এই বাড়ীতে তুমি থাকতে পারবে না এই বলে সোনালীকে ঘর থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাহিরে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আমার এখন যাওয়ার জায়গা নাই।আমার বাবা বেঁচে নাই।মা নিজেই অসহায় জীবন যাপন করে। যৌন পল্লীর অভিশপ্ত জীবনেও আর ফিরতে চাই না।স্বামীর সংসারেই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে চাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন,তারা জীবন ভরে খেটে একটি ঘর তুলতে পারেন না। অথচ মিন্টু কিছু দিনের মধ্যে গর্ত ভরাট করে পাকা ঘর বাড়ী করেছে ভেকু কিনেছে । ওর বাপ কয়েক বছর আগে টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।এখন তাদের খুব ভালো অবস্থা। সামান্য দর্জির কাজ করে এটা সম্ভব না।মিন্টু যা কিছু করেছে ওর বউয়ের টাকায়।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, এ বিষয়ে ওই গৃহবধূ একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার স্বাভাবিক জীবন-যাপন তথা সংসার রক্ষার জন্য তদন্তপূর্বক আইনগত সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করবো।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.ভি.

সম্প্রতি সংবাদ