গোয়ালন্দে ওসির হস্তক্ষেপে নিজ ঘরে প্রবেশ করলেন অসহায় নারী

editor ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শরিফুল ইসলাম বাচ্চু, গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:১০ এপ্রিল-২০২১,শনিবার।
বউয়ের টাকায় ঘর-বাড়ি করার পর এখন সেই ঘরবাড়ি হতেই বউকে তাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল স্বামী -শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে। থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে ৮ দিন পর ঘরের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২ টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর ঘটনাস্থল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া হোসেন মন্ডল পাড়ায় গিয়ে ওই নির্যাতিত গৃহবধূকে (২১) তার ঘরে ঢুকতে সহায়তা করেন। ৮ দিন আগে তাকে তার ঘর থেকে বের করে বাইরে তালা লাগিয়ে দেয় স্বামী -শ্বাশুড়ি ও শ্বশুর বাড়ির কয়েকজন।

এ সময় দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ সহিদুল ইসলাম, থানার এসআই মুরাদ হোসেন, গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম শেখসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীগন ও এলাকার গণ্যমান্যরা উপ¯িহত ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে গৃহবধূর শ্বাশুড়ি মোমেনা বেগম নিজ হাতে ঘরের তালা খুলে দিয়ে পুত্রবধূকে তার ঘরে ঢুকতে দেন। তবে গৃহবধূর স্বামী মিন্টু ফকির (২৭) পুলিশ আসার খবরে পালিয়ে যান।

এ সময় মিন্টুর স্ত্রী (২১)জানান, তার বাবার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। ৬ বছর আগে সে পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আসে।তারপর হতেই মিন্টুর সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের জুন মাসে তাদের বিয়ে হয়। এর আগে মিন্টু বিগত ৫ বছরে তার কাছ থেকে অন্তত ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজের বাড়িঘর ও অন্যান্য সম্পদ করে। এখন তারা আমাকে সহ্য করতে পারছে না। যেনতেন কারনে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে। সম্প্রতি ঠুনকো অভিযোগে আমার স্বামী আমাকে গোপনে এক তরফা ভাবে তালাক দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন,তারা জীবন ভর খেটে একটি পাকা ঘর তুলতে পারেন না। অথচ মিন্টু সামান্য দর্জির কাজ করে কিছু দিনের মধ্যে বিরাট গর্ত ভরাট করে সেখানে ৬/৭ লাখ টাকা খরচ করে পাকা ঘর তোলে।এছাড়া সে ভেকু মেশিন,ট্রলার ও শেয়ারে একটি ট্রাক কিনেছে । ওর বাপ মাত্র ২ বছর আগে টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।এখন তাদের খুব ভালো অবস্থা। মিন্টু যা কিছু করেছে তা ওর বউয়ের টাকায়।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, নির্যাতিত গৃহবধূ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাছাড়া  দৈনিক কালের কাগজ সহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসলে তারাও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এভাবে একটা অসহায় মেয়েকে কথিত তালাকের নামে বাড়ির বাইরে বের করে দেয়া যায় না। এটা অন্যায় ও অমানবিক । আমরা মেয়েটির পাশে আছি। আমার উপ¯িহতির খবরে মেয়েটির স্বামী মিন্টু ফকির পালিয়ে যায়। তবে তার শ্বাশুড়ি পুত্রবধুকে মেনে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সংসার করার বিষয়ে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।

 

সম্প্রতি সংবাদ