ব্রেকিং নিউজ

করোনার ঢেউয়ে অস্তিত্ব সংকটে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প

editor ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

মুক্তার হাসান,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:১৯ এপ্রিল-২০২১,সোমবার।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনে টাঙ্গাইলের অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। করোনার প্রথম ঢেউ এবং বন্যায় য়তি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় তাঁতশিল্পের মালিক ও শ্রমিকরা এখন দিশেহারা। করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাব ও বন্যায় তিগ্রস্ত প্রান্তিক তাঁতিদের একটি বৃহৎ অংশ জীবিকার প্রয়োজনে পৈতৃক পেশা বদলাতে গিয়ে অনেকে হিমসিম খাচ্ছে। তাঁতশিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা জানান, শাড়ি ব্যবসার জন্য পহেলা বৈশাখ, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজা প্রধান মৌসুম। করোনার প্রথম ধাপে গেল বছরের বন্যা, ঈদ, পূজা ও পহেলা বৈশাখে তৈরিকৃত শাড়ি অবিক্রিত রয়ে গেছে। করোনার কারণে বিক্রি না হওয়ায় সেগুলো রাখা হয়েছিল মজুদ করে। এবারও সেগুলো বিক্রি হচ্ছে না। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জন্য নতুন শাড়ি বানানো বা চাহিদা নিরূপণ করা হয়নি। যদিও ঈদুল ফিতরে সবচেয়ে দামি শাড়ি তৈরি ও শাড়ি বিক্রি বেশি হয়। চরহুগড়া গ্রামের তাঁত মালিক আছির উদ্দীন জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় লাভ-লোকসান তো পরের হিসাব এ শিল্পের অস্তিত্ব রা হবে কিনা তা নিয়েই শঙ্কিত। আমার বাবার সময় ৮০টি তাঁত ছিল। গত দশ বছরে কমতে কমতে এখন আমাদের বাড়িতে ১২টি তাঁত চালু আছে। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড (বাতাঁবো) সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য জেলার কালিহাতীর বল্লায় (ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর, কালিহাতী ও ভূঞাপুর উপজেলার জন্য একটি এবং সদর উপজেলার বাজিতপুরে দেলদুয়ার, বাসাইল, মির্জাপুর, নাগরপুর, সখীপুর ও সদর উপজেলার জন্য একটি) বাতাঁবোর রয়েছে দুটি বেসিক সেন্টার। বাতাঁবোর বাজিতপুর ও বল্লা এ দুইটি বেসিক সেন্টারের নিয়ন্ত্রণে ৪৯টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতি এবং ৪টি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির চার হাজার ৩৯১টি তাঁত ফ্যাক্টরি মালিকের ২৭ হাজার ৯৩১টি তাঁত চালু বা সচল এবং দুই হাজার ৬৭৩টি তাঁত আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রথম ঢেউয়ে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশনায় কল-কারখানা-ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণা করায় চালু তাঁত ফ্যাক্টরিগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেলার তাঁতশিল্পে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ৮৭ লাখ ৫৬ হাজার ৪০০ টাকা লোকসানের শিকার হতে হচ্ছে। বাতাঁবোর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাজিতপুর বেসিক সেন্টার সূত্রে জানা যায়, এ সেন্টারের ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতি ও তিনটি মাধ্যমিক সমিতির দুই হাজার ২৬৭ তাঁত মালিকের মোট ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৬৭৩টি তাঁত আগে থেকেই বন্ধ এবং ৯ হাজার ৭৫৬টি তাঁত চালু ছিল। মূলত এ বেসিক সেন্টারের তাঁতগুলোয় মিহি সুতার ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি তৈরি হয়ে থাকে। বল্লা (কালিহাতী) বেসিক সেন্টারের সূত্র মতে, এ সেন্টারের ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতি ও একটি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতির অধীনে দুই হাজার ১২৪টি তাঁত ফ্যাক্টরি মালিকের ১৮ হাজার ১৭৫টি তাঁত রয়েছে। এ বেসিক সেন্টারের তাঁতগুলোতে অপোকৃত মোটা সুতার শাড়ি উৎপাদিত হয়ে থাকে। শাড়ি প্রস্তুতকারক চন্দন জানান, করোনার প্রথম ঢেউয়ের সঙ্গে বন্যা তাঁত শিল্পের ব্যাপক তি করেছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এ শিল্প টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে আছি। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি তাঁত শাড়ির বাজার তৈরিতেও সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি। টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং-এর মালিক রঘুনাথ বসাক জানান, করোনার প্রথম ঢেউয়ের সঙ্গে বন্যা এবং করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহ দুর্যোগে জেলার তাঁত শিল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্য ও পরোভাবে জড়িত প্রায় দুই লাখ পরিবার এক প্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের জীবন-জীবিকার ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। টাঙ্গাইল সদরের বাজিতপুর বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ুদ্র ও প্রান্তিক ১৩৮ জন তাঁতিকে মাত্র ৫% সার্ভিস চার্জে ঋণ দেওয়া হয়েছে। আরও ৭৪ জনের ঋণ প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে প্রকল্প পরিচালকের কাছে। শাড়ি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কিংবা নতুন বাজার সৃষ্টিতে তাঁতিদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্প্রতি সংবাদ