ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জের লাল টুকটুকে কৃষ্ণচুড়ায় সেজেছে প্রকৃতি

editor ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্টার ২৩ এপ্রিল :২৩ এপ্রিল-২০২১,শুক্রবার।
মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সূর্যের সবটুকু উত্তাপ কেঁরে নিয়েছে লাল টুকটুকে কৃষ্ণচুড়া। জনপ্রিয় ও অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর রক্তিম ফুলে প্রকৃতি সেজেছে অপরুপ সৌন্দয্যে। পথচারীদের সহজেই চোখে পড়বে এই ফুল। বহু দুর থেকে দেখলে মনে হবে যেন গাছ গুলোতে আগুন লেগেছে। গ্রীস্মের অতি পরিচিত ফুল কৃষ্ণচুরা । মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, হরিরামপুর, শিবালয়, সাটুরিয়া, সিংগাইর অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও কৃষ্ণচুড়ার শাখায় শাখায় মনোমুগ্ধকর শোভায় প্রকৃতি দগদগে লালে লাল হয়ে সজ্ঝিত হয়েছে।
শোভা বর্ধনকারী এ কৃষ্ণচুরা গ্রামীন জনপদের পাশাপাশি এখনও নড়বড় অস্তিত্ব নিয়ে কোনোমতে টিকে আছে গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে। কৃষ্ণচুড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কায়। ভীনদেশি এ ফুলের বৃক্ষগুলো আমাদের দেশে নতুন নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তবে ধরেনা করা হয়, রাধা-কৃষ্ণের সাথে নাম মিলিয়ে এ বৃক্ষের নাম হয়েছে কৃষ্ণচুড়া। এর বড় খ্যাতি প্রচন্ড তাপদাহে যখন এ ফুল ফোটে তখন এর রুপে মুগ্ধ হয়ে পথচারীরাও থমকে দারায়। কৃষ্ণচুড়ার উচ্চতা খুব বেশি হয়না। সর্ব্বোচ এগার বার ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। তবে এর শাখা পলব অনেক দুর পর্যন্ত ছড়ানো থাকে। বছরের অন্য সময় গাছগুলে চোখে পড়ে না। এপ্রিল মে মাসে প্রকৃতির পেছনে ফেলে মানুষের দৃষ্টিতে আসে অত্যন্ত আকর্ষনীয় এ ফুল। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাংলাদেশে কৃষ্ণচুড়ার ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত। মুকুল ধরার কিছু দিনের মধ্যে পুরো ফুলগুলো বড় সাত থেকে আটটি পাপড়িযুক্ত গাড় লাল হয়ে যায়। ফুলের ভীতরের অংশ হালকা হলুদ ও রক্তিম হয়ে থাকে। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় সাধারনত ১২/১৫ মিটার হলেও শাখা-পল্লবে এটির ব্যাপ্তি বেশ প্রশ্বস্ত। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। মুকুল ধরার কিছু দিনের মধ্যে পুরো গাছ ফুলে ফুলে ভরে যায়। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচূড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ। কৃষ্ণচুড়া ফুলের সত্যিকার সৌন্দয্য এর কাছে কিছুটা হলেও উপলদ্ধি করা সম্ভব। তবে পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনে কৃষ্ণচুড়া চাষাবাদ করা প্রয়োজন। বৈশাখ মাসে ভিন্ন সাজে বাংলার প্রকৃতি। আকাশে গনগনে সূর্য। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস। গ্রীষ্মের এই নিস্প্রাণ রুতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমায়। রুদ্র গ্রীষ্ম কেবল আগুনই ঝরায় না, লাল রঙে কৃষ্ণচূড়ার পসরা সাজিয়ে মনও কাড়ে। এ যেন প্রকৃতিজুড়ে কৃষ্ণচূড়ার ক্যাম্পাস। মানিকগঞ্জে চোখ ধাঁধানো টুকটুকে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলে সেজেছে গ্রীষ্মের প্রকৃতি। দুর থেকে দেখলে মনে হয়, বৈশাখের রৈদ্দুরের সবটুকু উত্তাপ গায়ে মেখে নিয়েছে রক্তিম পুষ্পরাজি; সবুজ চিরল পাতার মাঝে যেন আগুন জ্বলছে। গ্রীষ্মের ঘামঝরা দুপুরে কৃষ্ণচূড়ার ছায়া যেন প্রশান্তি এনে দেয় অবসন্ন পথিকের মনে। তাপদাহে ওষ্ঠাগত পথচারীরা পুলকিত নয়নে, অবাক বিষ্ময়ে উপভোগ করেন এই সৌন্দর্য্য।
বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি আর অনেক বহু আন্দোলনের পটভূমির সাথে কৃষ্ণচুড়া গাছের সম্পর্ক খুব নিবিড়। ছড়া-কবিতা-গানে উপমা হিসাবে নানা ভঙ্গিমায় এসেছে এই ফুলের সৌন্দর্য্য বর্ণনা। শোভা বর্ধনকারী এ বৃটি দেশের গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি শহরের মানুষের কাছেও সমান গুরুত্ব বহন করে। শখের বশে এ গাছের কদর থাকলেও; এর কাঠ তুলনা মূলক দামী না হওয়া এবং ভালো কোন ব্যবহারে না আসায় বাণিজ্যিকভাবে এ গাছ বপনে আগ্রহ অনেক কম। বৃ নিধনের শিকার হয়ে দিন দিন কমে মানিকগঞ্জে যাচ্ছে রঙিন এই গাছ। একসময় এ গাছ হারিয়ে যাওয়ার শংকায় পরিবেশবাদীরা।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক (খামারবাড়ি) মোঃ শাহজাহান আলী বিশ^াস জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে কৃষ্ণচুড়ার চাষাবাদ ব্যাপকভাবে করা প্রয়োজন। তবে এ বছরে আবহাওয়া ভাল থাকায় কৃষ্ণচুড়া ফুল প্রচুর ফুটেেেছ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি মানুষ ও প্রকৃতির স্বার্থেই বেশি করে কৃষ্ণচুড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি সংবাদ