এনজিও ঋণের টাকায় বাবুল আকতারের মানবসেবা

editor ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

  জি এম ফিরোজ উদ্দিন,মনিরামপুর (যশোর):  ২৪ এপ্রিল-২০২১,মনিবার।

তিন বেলা খাওয়ার জন্য নিজের ঘরে চাল-ডাল থাকে না। তারপরও পরিবারের কথা না ভেবে এনজিও থেকে ঋণের টাকায় কেনা চাল-ডাল, সবজি, তৈল, মাছসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে কঠোর লকডাউনে বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন কাউন্সিলর বাবুল আকতার। গত রোববার থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে এ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছেন। বাবুল আকতার যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড (কামালপুর ও মোহনপুর গ্রামের আংশিক) নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং স্বেচ্ছাবেক লীগ পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক। গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সেদিন ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় ওই রাতে গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ ভোট কেন্দ্র ঘিরে রাখে বাবলুর জন্য। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করতে বাধ্য হন কের্ন্দের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার। সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে কঠোর লকডাউনে দুর্বিষহ হয়ে ওঠা মানুষের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় নিয়ে ঋণের টাকায় কেনা চাল, ডাল, মাছ, তৈল, আটা, ছোলা সবজিসহ ১৪ রকমের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে অসহায় মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন কাউন্সিলর বাবুল আকতার ওরফে পাগলা বাবুল। শুধু এবারই প্রথম নয় প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ যেকোনো বিপদে ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের পাশে সবার আগেই পৌঁছে যান বাবুল আকতার। এর প্রতিদানও পেয়েছেন কাউন্সিলর বাবুল আকতার। গেল নির্বাচনে ওয়ার্ডের আপামর জনসাধারণের ভালোবাসায় ফের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলর বাবুল আকতারের সহধর্মিণী জাকিয়া বেগম বলেন, ‘উনি (বাবুল) গ্রাম নিয়েই পড়ে আছেন, কি করলি মানুষের ভালো হবে এই হলো তার ধ্যানজ্ঞান। সন্তানরা তিনবেলা কী খাবে তার খোঁজখবর রাখে না। গত সপ্তাহে আদ্ব-দ্বীন সমিতি থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ তুলে আবার গ্রামের মানুষের জন্যে খাবার কিনেছে। গত বছর লকডাউনের সময় অনুরূপভাবে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছিল। বাবলুর বৃদ্ধা মা আশুরা বেগম বলেন, ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে প্রথম দিকে খারাপ লাগত, কিন্তু গ্রামের মানুষ বাবলুরে ভালো বলে বিধায় তার বাবলুকে নিয়ে এখন গর্ব হয়। বয়োবৃদ্ধ হালিমা বেগম বলেন, বাবুল আমাগের জন্যি যা করে তা নিজের ছেলে-পুলেও করে না। আলেয়া বেগম নামের অপর এক বয়োবৃদ্ধ বলেন, রোগে চলার জো-নেই, তাই কয়দিন আগে বাবলু নিজিই ভাতার টাহা তুলে আনে আমাগে খাদ্য দেচ্ছে। কাউন্সিলর বাবুল আকতার বলেন, গেল নির্বাচনে গ্রামের মানুষ চাঁদা তুলে আমাকে ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা দেয়। নির্বাচনে সব টাকা খরচ হয়নি। ওইখান থেকে বেঁচে থাকা টাকা এবং ঋণের টাকায় কেনা এসব পণ্য ২৬০ পরিবারের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র।

সম্প্রতি সংবাদ