আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকাগামী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় । স্বাস্থ্য বিধি মানছেনা

editor ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :২৫ এপ্রিল ২০২১, রবিবার ।
আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকাগামী যাত্রীদের  উপচে পড়া ভিড় স্বাস্থ্য বিধি মানছে  সাধারন  যাত্রীরা । শপিংমল খুলে দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ পড়েছে আরিচা ও পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। যাত্রীরা গত শুক্রবার থেকে ছুটতে শুরু করেছে ঢাকার দিকে। এসব যাত্রীদের বেশীর ভাগই ব্যবসায়ী। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় এসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসব যাত্রীদেরকে। এরা ঘাট এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মটরসাইকেল ও সিএনজিযোগে চার-পাঁচগুণ বেশী ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

শনি ও রোববার ( ২৫ এপ্রিল) আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা কর্মস্থলে যাওযার জন্য ইঞ্জিন চালিত স্যালো নৌকা, ফেরিতে এবং কাজিরহাট থেকে স্পিডবোটে পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিয়ে আরিচা এবং পাটুরিয়া ঘাটের দিকে আসতে থাকে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এখান থেকে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মটরসাইকেল ও সিএনজিসহ ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন। এ সুযোগে উক্ত পরিবহণ শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের নিকট থেকে। ধামরাই, সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও হেমায়েতপুরের যাত্রী প্রতি ভাড়া আদায় করছে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা করে। ভাড়া বেশী হলেও বস্ত্র ব্যবসায়ীরা ঈদের আগে দোকান খোলার জন্য ঢাকা যাচ্ছেন।

লকডাউনের কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খুলছে। আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বেশি ভাড়া দিয়ে ঢাকায় ফিরছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ঢাকার গুলিস্থান এলাকায় বস্ত্রব্যবসায়ী মো. আক্কাস আলী জানান, তিনি পাবনার কাজিরহাট থেকে ১৫০টাকা ভাড়া দিয়ে ট্রলারে আরিচা ঘাটে এসে নামেন। তিনি যাবেন ঢাকা গুলিস্থানে। কিন্ত আরিচা থেকে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ কোন যানবাহনই ঢাকার মধ্যে যেতে চায়না। এরা যাবে হেমায়েতপুর পর্যন্ত তাও আবার ভাড়া দিতে হবে ৫০০ টাকা করে। অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য দর কষা-কষি করতে থাকেন তিনি। এতে তিন ঘন্টা কেটে যায় তার আরিচা ঘাটেই। আবশেষে বাড়তি ভাড়া দিয়েই ঢাকা যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এসব পরিবহণ শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একাধিক স্থানে পুলিশের চেক পোস্ট থাকায় সিঙ্গাইর রোড হয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে আমাদেরকে ঢাকা যেতে হয়। আবার পুলিশের হাতে ধরা পড়লে জরিমানা দিতে হয়। যে কারণে বাড়তি ভাড়া নেওয়া ছাড়া আমাদের কোন উপায় নাই।

এদিকে আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে লঞ্চ বন্ধ থাকলেও কিছু কিছু স্পিডবোট চলাচল করতে দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরিচা অঞ্চলের স্পিডবোট মালিকরা তাদের বোট চলাচল বন্ধ রেখেছে। কিন্তু কাজিরহাটের মালিকরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে স্পিডবোট চালাচ্ছে। আবার লঞ্চের স্টাফরা আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে স্যালো নৌকায় করে যাত্রী পারাপার করছে। ফলে লঞ্চ এবং আরিচা অঞ্চলের স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকলেও যাত্রী পারাপার থেমে নেই। স্বাস্থ্য বিধির তোয়াক্কা না করে অবাধে যাতায়াত করছে যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসি’র ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলদিয়া নৌ রুটে ১৬টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে দিনের বেলায় ২/৩টি ফেরি দিয়ে জরুরী পণ্যবাহী ট্রাক পারপার করা হয়ে থাকে। এছাড়া বাকী ফেরিগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এসময় কিছু যাত্রী ফেরিতে পারপার হয়ে থাকে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সংবাদ