মানিকগঞ্জে ৭টি উপজেলাতে ভুট্রার বাম্পার ফলন কৃষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাচ্ছে

editor ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু স্টাফ রিপাের্টার:৩০ এপ্রিল-২০২১,শুক্রবার।
মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে এবারও ভুট্রার বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশীয় ভুট্রার পাশাপাশি হাই ব্রিট ভুট্রার আবাদ ব্যাপকভাবে করা হচ্ছে। অল্প খরচে অধিক ফলন এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্রার লাভজনক হওযায় ভুট্রার আবাদে ঝুঁকে পরেছে সাধারন কৃষকেরা। পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে এ বছর ভুট্রার আবাদ ভালো হয়েছে। ভুট্রা মাড়াইয়ের কাজ চলছে এখন পুরো দমে। বাম্পার ফলনে ভালো দাম পেয়ে সাধারন কৃষকের চোখেমুখে হাঁসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। ভুট্রা চাষাবাদে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুড়ে দাড়িয়েছে।

মানিকগঞ্জের ঘিওর, দৌলতপুর, সাটুরিয়া, সিংগাইর প্রতি বছর ব্যাপক ভাবে ভুট্রার আবাদ করে থাকে এলাকার সাধারন কৃষকেরা। ভুট্রার ফলন ব্যাপক হবার ফলে এলাকার কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বালম্বী হচ্ছে। ভুট্রার চাষে অনেক কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাড়িয়েছে। বিগত সময়ে ফলন ভালো এবং দাম আশানুরুপ পাওয়ায় এলাকার কৃষকেরা ভুট্রা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া গ্রামের ভুট্রা চাষি নূর আলম জানান, এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে ভুট্রা আবাদ করেছেন। সব মিলিয়ে তার ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশাবাদী চলতি মৌসুম শেষে তিনি তার জমি থেকে ৪৫ মন ভুট্রা ঘরে তুলতে পারবেন। প্রতিমণ ভুট্রা ৬শ থেকে ৬শ’৫০ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। মাইলাগী গ্রামের এক কৃষক জানান তিনি চলতি মৌসুমে ৮ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তার দ্বিগুন ফলন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘিওর উপজেলার বাইলজুরি এলাকার কৃষক মোঃ মজিবর জানান, এবছর তিনি প্রায় ৫ বিঘা জামতে ভুট্রা আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকরা যখন যে পরামর্শ চেয়েছে তা আমরা দেয়া হয়েছে। ফসলের রোগ, পোকামাকড়,দমনে চাষীদের গ্রুপ ভিত্তিক সচেতন সভা সহ প্রতিনিয়ত তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ভুট্রার বীজ, কীটনাশক, আগাছা দমন, নিবির পরিচর্য়ার সঠিকভাবে করার পরামর্শ দেয়ার কারনে এবার ভুট্রা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ঘিওর বাজারের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, জেলার বৃহত্তম হাট ঘিওর। প্রতি বুধবার হাটে আমি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মন ভুট্রা ক্রয় করে থাকি। বর্তমানে ৬শ’ থেকে ৬শ’ ৫০ টাকা মন ধরে ভুট্রা কেনা বেচা হচ্ছে। তবে এবার আবাদ বেশি হওয়ায় প্রতি হাটে শত শত মন ভুট্রা বিভিন্ন এলাকার থেকে এই হাটে বিক্রয়ের জন্য আসে। মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে গত বছরে ঘিওরে ২২ হেঃ জমিতে ভুট্রা আবাদ হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৪৬ হেক্টর জমিতে ভুট্রা আবাদ হয়েছে। ঘিওর বাইলজুরি, চরবাইলজুরি, পয়লা, সিংজুরি, মাইলাগী, বৈলট, কুশুন্ডা এলাকায় ব্যাপক ভুট্রা আবাদ হয়েছে। সিংগাইর, হরিরামপুর, সাটুরিয়াতে প্রচুর পরিমানে ভুট্রা আবাদ হয়েছে। এই অঞ্চলের কৃষদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাড়িয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-সহকারি পরিচালক (খামারবাড়ি) মোঃ শাহজাহান আলী বিশ^াস জানান, মানিকগঞ্জের, সিংগাইর ,সাটুরিয়া, ঘিওর, দৌলতপুর অঞ্চলে প্রচুর ভুট্রার আবাধ হয়েছে। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকুলে থাকায় সারা জেলাতে ভাল আবাধ হয়েছে। তবে দেশী ভুট্রার চায়তে হাইব্রিড জাতের ভুট্রা চাষে লাভ বেশি। এতে রোগ বালায়ের আশংকা কম। দাও বেশি পাওয়া যায়। গত বছরে জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমানে ৮ হাজার ৫শ’ ২২ হেক্টর। এবার ভুট্রা আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ২শ’ ১২ একর হেক্টর জমিতে । প্রতি একরে ১২০ থেকে ১৩০ একর ভুট্রা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ