স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীর খনন কাজ শুরু । ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে লোকজন

editor ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু,স্টাফ রিপোটার:০৫ মে-২০২১,বৃহস্পতিবার।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুরাতন ধলেশ্বরী নদীর পূর্নখনন কাজ শুরু হয়েছে। ধলেশ্বরী নদীর কাজ শেষে হলে নদীর পার্শবর্তী কুস্তা, শ্রীধরনগর, মাইলাগী,পূর্বপাড়া এবং বালিয়াখোড়া এলাকার বহু লোকজন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং হাজার হাজার ফসলী জমি ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
জানা গেছে, ৮৮ সালের ভয়াবহ ভাঙ্গনের পর থেকে ভাঙ্গন এলাকার লোকজনের সাথে ঘিওর-খলসী, বিনোদপুর, চরকাটারী , জিয়নপুর এলাকার লোকজনের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সকল প্রকার নৃত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। বিভিন্ন সময়ে ভাঙ্গন রোধকল্পে ব্যবস্থা গ্রহন করা হলেও বন্যা মৌসুমে এই সমস্থ এলাকার হাজার’ হাজার একর জমি, বাড়ি, ঘর সহ সমস্ত কিছু নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বাড়ি, ঘর হাড়িয়ে বহু লোকজন গৃহহীন হয়ে পরে। অনেক পরিবার আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার অনেকে আশ্রয়ন প্রকল্প এবং রাস্তার পাশে কোন মতো জীবন যাপন করছে। দীর্ঘ ৫০ বছরে ও বেশি সময় ধরে নদী খনন না করায় নদীটি মরা খালে পরিনত হয়েছে পুরাতন ধলেশ্বরী। বন্যা মৌসুমে এই অঞ্চলের লোকজনের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। অপর দিকে বেদখল হয়ে গেছে যাচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া ধলেশ^রী নদীর শত শত একর জমি। অপর দিকে নদীটি পানি শূর্ন হয়ে ধুধু বালু চরে পরিনত হয়েছে। ধলেশ্বরী নদীতে বিশাল চর পরায় স্থানীয় একটি বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রাতের অন্ধকারে নদী থেকে লাখ লাখ ঘন ফুট বালু চুরি করে বিক্রি করছে। সংঘবদ্ধ এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগার সামনে দিয়ে বালু চুর করে বিক্রি করলেও রহস্যজনক কারনে তার কোন ভুমিকা রাখছেনা বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। পানির অভাবে ধলেশ^রী নদী থেকে প্রায় ১০/১২ কিঃ মিঃ এলাকা জুরে বিপুল পরিমান জমি অনাবাদি হয়ে পরেছে। এলাকার সাধারন কৃষকদের চাষাবাদের ক্ষেত্রেও মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। নদী ভরাটের কারনে চরম অস্বিত্ব সংকটে থাকায় ফসলের মাঠে পরিনত হয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলার বিরাট অংশের লোকজনের মাছের চাহিদাও জোগান হতো ধলেশ^রী নদী থেকে। জলবায়ু পরিবর্তনে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হবার কারনে এবং ড্রেজিং ও কখন না করার কারনে দেশীয় মাছ সংকট দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি মাসে পানি উন্নয়ন বিভাগের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা কেেয়ক দফা ধলেশ^রী নদী পরিদর্শন করে। ভাঙ্গনরোধে বিভিন্ন প্রকল্পের তৈরি করে তারা কাজ ট্রেন্ডাররে মাধ্যমে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেন। তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে ধলেশ^রী নদী পূর্নখনন কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। খনন কাজ শেষ হলে নদীর গতি পথ ও সঠিকভাবে পানি প্রবাহিত হলে ভাঙ্গনের হাত থেকে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ রক্ষা পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
কুস্তা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ইকরামূল ইসলাম খবির জানান, ধলেশ্বরী নদীর খনন কাজ শেষ হলে আমাদের এলাকার নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এবং শুস্ক মৌসুমে এলাকার হাজার হাজার লোকজন উপকৃত হবে। কুস্তা গ্রামের ব্যবসায়ী ফিরোজ জানান, ধলেশ^রী নদীর পাড়েই আমাদের বাড়ি। ছোট বেলায় আমার বাবার সঙ্গে গোসল করতে আমরা নদীতে যেতাম। হাত দিয়ে মাছ ধরতাম। আমাদের বসত বাড়িসহ ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদীর উপর দিয়ে ঘোরার গাড়ি মালামাল নিয়ে চলাচল করে। তবে নদীটি খনন হলে এলাকার লোকজনের অনেক উপকার হবে বলে তিনি জানান।

গত মঙ্গলবার বিকালে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় ঘিওর -কুস্তা এলাকায় পুরাতন ধলেশ্বরী নদীর পূর্নঃ খনন ৯.৫০০ কিঃ মিঃ হতে ১১.২০০ এর মধ্যে ০.৫০০ কিঃ মিঃ পর্যন্ত নদী পূর্ন খননের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের অর্ত বিষয়ক সম্পাদক ও শিবালয় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আব্দুর রহিম খান, পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন, সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলমি মিন্টু প্রমুখ। উল্লেখ্য, ধলেশ্বরী নদী পূর্ন খননের জন্য মেসার্স আল মামুন ট্রেডার্স ১ কোটি ৭৮ লাখ ব্যয়ে এবং বালিয়াখোড়া ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২টি কাজ পেয়েছে। গত ৪ এপ্রিল থেকে ধলেশ্বরী নদীর পূর্ন খনন কাজ শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।

 

সম্প্রতি সংবাদ