ঘিওরে সংস্কারের অভাবে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী কালী ও দুর্গা মন্দির

editor ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্টার:০৭ মে-২০২১,শুক্রবার।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ২’শত বছরের পুরনো কালের সাী জাবরা রাজবংশী সম্প্রদায়ের মন্দির সংস্কারের অভাবে এখন ধ্বংসের পথে। বানিয়াজুরী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে জাবরা রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধ সহস্রাধীক লোকজনের বসবাস। তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও পূজা অর্চনার যাবতীয় কাজ এই মন্দির ঘিরে। মন্দিরটির বর্তমান বেহাল অবস্থার দরুন ভক্তদের ধর্মীয় কার্যক্রম চালাতে কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জাবরা বাজার থেকে হাপ কিলোমিটার দুরে রাজবংশী পাড়া। সুবিশাল উচ্চতার বটগাছের পাশাপাশি জড়াজীর্ণ ঐতিহ্যবাহী দুর্গা ও কালী মন্দির। সুন্দর ছায়া ঘেরা নিবির পরিবেশে মন্দির দুটি অবস্থিত। মন্দিরের দুটির অবকাঠামো এতটা পুরনো যে, টিনের বেড়া, চাল, খুঁটি ভেঙ্গে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। মন্দির সুরক্ষায় নেই কোন প্রাচীর। দুর্গা মন্দিরে বেড়া ও দরজা নেই। মন্দিরটি সংস্কারের জন্য মহৎ প্রাণ ভক্তবৃন্দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্দিরের ভক্তরা। মন্দিরটি দেখভাল করার জন্য ইতিমধ্যে এলাকার কমল রাজবংশীকে সভাপতি এবং নির্মল রাজবংশীকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্দিরের সদস্য এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দান-অনুদানেই চলে মন্দিরের সকল প্রকার কার্যক্রম। মন্দির কমিটির সম্পাদক নির্মল রাজবংশী বলেন, মন্দিরটি সংস্কার করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এই মন্দিরটি সংস্কারের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা স্থানীয়ভাবে যোগান দেয়া অসম্ভব। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি আবেদন, দুইশত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরটি সংস্কার করে যেন রা করা হয়। মাদারি রাজবংশী বলেন, পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে জানা প্রায় দুই থেকে আড়াইশত বছর পূর্বে নির্মিত মন্দিরটি তৎকালীন ধর্মীয় রীতিনীতি, সমাজ ব্যবস্থা ও ইতিহাসের সঙ্গে জুড়ে। কিন্তু রাণাবেনের অভাবে সেগুলি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের সামনে তৎকালীন ইতিহাস ও ধর্মীয় রীতি তুলে ধারার জন্যই সেগুলিকে সংরণ করা উচিত। কিন্তু সেই কাজ কবে শুরু হবে, কেউ তা জানে না। এলাকার ফালানী রাজবংশী বলেন, আমার বয়স যখন ছোট তখন দেখতাম, আশপাশের পাঁচটি গ্রামের হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের একমাত্র ভরসা ছিল এই মন্দির। বিভিন্ন পূজার সময় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা আসায় এখানে প্রাণের জোয়ার তৈরি হতো। পূণ্যার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে থাকত মন্দিরের আঙ্গিনা। কিন্তু এখন আর সে পরিবেশ নেই। মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে অনেকটাই পরিত্যক্ত। বর্তমানে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চতু বলেন, মন্দিরটি অনেক পুরাতন। এটা সংস্কার করা জরুরি হয়ে পরেছে। তিনি সমাজের বিত্তশালী ধর্মীয় অনুরাগীসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি কমল রাজবংশী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনার জন্য প্রায় ১৯ শতাংশ জমির উপর এই মন্দির স্থাপিত হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে কালের সাী এ মন্দিরটি এখন ধ্বংসের পথে। তাই আমাদের দাবি- অচিরেই মেরামত করা প্রয়াজন। আমাদের গ্রামের মন্দিরটির ঐতিহ্য টিকে রাখতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমরা গরীব মানুষ। আমাদের একার পে মন্দিরটির সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

সম্প্রতি সংবাদ