বিশ্বকাপের চেয়েও ভারতের এই জয় বড়!

editor ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ খেলাধুলা

কালের কাগজ ডেস্ক : ০৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার ।

ভারত ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে দু’বার। একবার জিতেছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও। কিন্তু তৃপ্তি-মর্যাদর মাপকাঠিতে ওই তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও ওপরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জেতা টেস্ট সিরিজ জয়। ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং কোচ রবি শাস্ত্রির রায় অন্তত সেটাই। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছে কোহলির ভারত। সিডনি টেস্টটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় ৪ ম্যাচের সিরিজটা সফরকারী ভারত জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

সিডনি টেস্ট শেষে কোহলি ও শাস্ত্রি-দু’জনেই বলেছেন এক সুরে বলেছেন এই জয় তাদের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বেশি কিছু। বেশি তৃপ্তির। কোহলি-শাস্ত্রি এই সিরিজ জয়কে এতো উঁচুতে তুলে ধরার পেছনে যুক্তি সংগত কারণও আছে।

ভারত টেস্ট ক্রিকেটে পা রেখেছে সেই ১৯৩২ সালে। প্রথম বার অস্ট্রেলিয়া সফর করে ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে। সেবার ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ তে হেরেছিল ভারত। সেই যে শুরু। তারপর যতবারই অস্ট্রেলিয়া সফর করেছে, প্রায় প্রতিবারই হার নিয়ে ফিরতে হয়েছে। এক-দুবার ড্র’র তৃপ্তি মিললেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের তৃপ্তি মেলেনি কখনোই।

প্রতিবারই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন এঁকেই অস্ট্রেলিয়ায় গেছে। কিন্তু ব্যর্থ মনোরথেই ফিরতে হয়েছে বারবার। অবশেষে সেই অধরা স্বাদ ভারত পেল কোহলি-শাস্ত্রিদের হাত ধরে। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া জয় করে কোহলি-শাস্ত্রি তাই খুশিতে গদগদ। খুশির মাত্রাটা এতো বেশি যে, বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও এই জয়কে বসালেন উঁচু আসনে।

কোহলি এবং শাস্ত্রি দু’জনেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনালে খেলার সুযোগ না পেলেও শাস্ত্রি ছিলেন ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। আর কোহলি তো ২০১১ বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টেই খেলেছেন। নিজেদের সেই বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়েই তারা অস্ট্রেলিয়ার মাটির টেস্ট সিরিজ জয়কেই উপরে রাখছেন।

উচ্ছ্বাসের স্রোতে ভেসে কোহলি যেমন স্পষ্ট কণ্ঠেই বলেছেন, ‘আমি ২০১১ বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলাম। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বিশ্বকাপ না জেতার আক্ষেপ আমাদের ছিল না। ঘরের মাঠে খেলেছি এবং জিতেছি… দলের সিনিয়রদের মধ্যে সেই আবেগটা হয়তো ছিল। কিন্তু দলের সবচেয়ে তরুণ সদস্য হিসেবে আমার মধ্যে আবেগটা সেই ভাবে ছিল না। হ্যাঁ, মুহূর্তটি আমার জন্য দারুণ ছিল। কিন্তু যদি জানতে চান কোন মুহূর্তটি বেশি আবেগপূর্ণ, আমি এই জয়টির কথাই বলব।’

একটু থেমে কোহলি যোগ করেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় এটা আমার তৃতীয় সফর। আমি জানি, এখানে টেস্ট সিরিজ জেতা কতোটা কঠিন। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি বলব, এখানে সিরিজ জেতাটা আমার কাছে বেশি আবেগপূর্ণ। এবং বিশেষ কিছু। আমরা এক ম্যাচের বিস্ময় না হয়ে ঘরের বাইরে সিরিজ জিততে চেয়েছি। সব কিছুই পরিকল্পনা মতো হওয়ায় নিজেদের পূর্ণ মনে হচ্ছে। কারণ, আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল। কাউকে দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজেদের প্রমাণের জন্য।’

কোচ শাস্ত্রির কণ্ঠেও বাজল একই সুর, ‘এই জয় আমার কাছে কতোটা তৃপ্তির তা বুঝিয়ে বলছি, ৮৩’র বিশ্বকাপ বা ৮৫’র চ্যাম্পিয়নশিপ—এসব টুর্নামেন্ট জয়ের সমানই এই জয়। কিংবা তার চেয়েও বেশি তৃপ্তির। কারণ কোহলিরা জিতেছে ক্রিকেটের সেরা সংস্করণ টেস্টে, অস্টেলিয়ায়। যেখানে জেতাটা সবচেয়ে কঠিন।

 

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ