ব্রেকিং নিউজ

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই যুদ্ধাপরাধী মুক্ত দেশ চান মুক্তিযোদ্ধারা

editor ২৯শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক:২০ জানুয়ারী,রবিবার।

১৯৭১ সালে দেশের কিছু স্বার্থান্বেষীদের সহায়তায় প্রায় ৩০ লাখ সাধারণ মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। যেখানে লাখ লাখ মা বোনের সম্ভ্রম ছিনিয়ে নেয় কিছু দেশ দ্রোহীদের সার্বিক সহযোগিতায়। যাদেরকে দেশবাসীয় এক নামে রাজাকার বলে ডাকে। অপর দিকে ৭১ সালে দেশ রক্ষায় যে সকল টগবগে তরুণরা স্বাধীনতা যুদ্ধের নিবেদিত প্রাণ ছিলেন, তারা আজ বয়োজ্যেষ্ঠ। স্বাধীনতার ৪৮ বছর হতে চলল। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তনরা এই সময়টাতে অনেক কিছুই দিয়েছে দেশ ও জাতিকে। তবে পাওয়ার অপূর্ণতার মধ্যে একটি চাওয়া এখনো রয়ে গেছে। আর আসছে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগেই যুদ্ধাপরাধী মুক্ত দেশ দেখে যেতে চান মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযোদ্ধারা অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই এই কথাটি বলেছেন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে দেয়া সেই পরাজিত শক্তিই স্বাধীনতার পর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নামের সংগঠন নিয়ে দেশের আরেক বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির সহায়তা তারা দল চালাচ্ছে। আর এই দলটিতে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের একঝাক বড় নেতা। যদিও আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বেশ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধির ফাঁসির রায় কার্যকর করেছে, তারপরও রয়ে গেছে অনেকে। যারা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

জামায়াত মূলত নিবন্ধিত কোনও রাজনৈতিক দল নয়। ২০১৩ সালের দিকে আদলাত দলটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। আর ২০১৮ সালে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তবে তাদের সাংগঠনিক কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। তা ছাড়া বিএনপি তাদের প্রধান প্রশ্রয়দাতা হওয়ায় তারা ব্যাপক আকারে সাংগঠনিক কাজ চালাচ্ছে বিএনপির ছত্রছায়ায়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছিল এই জামায়াত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পরে তৎকালীন শাসকদের ঘাড়ে চেপে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি পুনরায় দেশে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায়।

অস্তিত্ব সঙ্কটে থাকা স্বাধীনতাবিরোধীরা এরইমধ্যে তরুণ প্রজন্মকে বিভিন্ন বিষয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। তাদের গড়া ছাত্র শিবিরের মাধ্যমে সুযোগ পেলেই দেশজুড়ে অরাজকতার সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। আ.লীগ গত টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এ সময়টিতে শেখ হাসিনার দৃঢ়তা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়েও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশকে জামায়াত মুক্ত করার কাজ এরইমধ্যে অনেকখানি এগিয়েছে। ফাঁসি হয়েছে শীর্ষস্থানীয় প্রমাণিত রাজাকারদের। এখন শুধু অপেক্ষা বাকি রাজাকারদের যথাপোযুক্ত সাজার।

 

আর দুই বছর গড়ালেই স্বাধীনতার ৫০ বছর পালিত হবে দেশজুড়ে। যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা ভাবছেন তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে ও সঠিক পথে ধরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশকে রাজাকার মুক্ত দেখতে চায় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা।

সম্প্রতি সংবাদ