ফিরছে পাটের হারানো গৌরব, বহুমুখী পাট পণ্যে মুগ্ধ বাণিজ্য মেলার ক্রেতারা

editor ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ অর্থনীতি

কালের কাগজ ডেস্ক :২৩ জানুয়ারী,বুধবার ।

একটা সময় দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও রফতানি বৃদ্ধিসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাট খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল পাট। ২০০৮ সালের শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল, পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা। সেবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখনো পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদের বর্তমান সরকার পাট খাতের উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে পাট খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে পাট আইন-২০১৫, পাটনীতি-২০১৫, বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান আইন-২০১৫ ও বস্ত্রনীতি-২০১৫ প্রণয়নের উদ্যোগ অন্যতম। পাশাপাশি রয়েছে কয়েকশ কোটি টাকা বিনিয়োগে বন্ধ মিলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া।

এক প্রতিবেদনে জানা যায়, পাটপণ্যের বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট, প্রধান বাজার ভারতে অ্যান্টি-ডাম্পিংয়ের কারণে রফতানি কমে আসা, পারিপার্শিক অসুবিধায় পড়ে ব্যাংকের ঋণ বোঝা বেড়ে যাওয়া, প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়িক ক্ষতিসহ নানান কারণে মাঝের সময়টাতে পাটের বড় উৎপাদক হওয়ার গৌরবটি একটা সময় হারাতে হয়েছিল। পাট খাতে সুসময় ফেরাতে বর্তমান সরকার উদ্যোক্তাদের সব বকেয়া ঋণ পরিশোধসহ বিশেষ বিশেষ কিছু সুযোগ দেওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাটকলগুলো সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে।

এতে করে উদ্যোক্তারা নতুন করে “সোনালী আঁশ” নামে খ্যাত পাট পণ্যের উৎপাদন ও রফতানীতে পুনরায় আগ্রহী হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোও দৃষ্টিনন্দন পাটপণ্য তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থানের এমনই বেশ কিছু উদ্যোক্তাদের তৈরি বহুমুখী পাট পণ্যের সমাহার দেখা গেছে। যেখানে প্রায় দুই শতাধিক পাটের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে মেলার জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) প্যাভিলিয়নে।

বাণিজ্য মেলার সাধারণ ক্রেতা ও ভ্রমণ পিয়াসূরা অনেকটা মুগ্ধ হয়েই দেখছে প্রদর্শিত তৈরি পাটপণ্য যেমন- ঘরের আসবাব, হাতে তৈরি পাটের হ্যান্ড নোটবুক, নারীর গয়না, শিশুদের খেলনা, মানিব্যাগ, কাঁধে ঝুলানো বাহারি ব্যাগসহ প্রায় দুইশটির মতো পণ্য। যেখানে ক্রেতাদের আগ্রহ ও চাহিদা দেখে বিক্রেতারা বা উদ্যোক্তারা এ খাতের ভবিষ্যত উজ্জ্বল মনে করছেন।

একটা সময় পাট পণ্য নিয়ে যেখানে কাজ করার কথা চিন্তাও করতে পারতো না যেসকল উদ্যোক্তারা, আজ তারা এই খাতটিকেই ব্যবসায়ের মূল আয়ের পূঁজি হিসেবে নিয়েছেন বলে এমনটিই জানিয়েছেন পাট ব্যবসা সংশ্লিষ্টজন।

এবারের মেলায় দেশের নানা স্থান থেকে আসা উদ্যোক্তারা তাদের পাট পণ্য জেডিপিসি’র প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরছে। মেলায় আগত কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই মেলায় পাট পণ্যের প্রতি ভোক্তাদের সাড়া বেড়েছে। আর এরবার মেলার শুরুতে ক্রেতাদের আগ্রহ অন্যান্য বারের থেকে অনেকটা বেড়েছে। বেচাকেনাও গত বছরের চেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাট খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের নানামুখী উদ্যোগগুলো সফল হওয়াতে এ খাতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে তারা নিজেদের ব্যবসাকে অন্যন্য উচ্চতায় নিতে বাহারি ডিজাইনের পাটপণ্য তেরি করছে। আর এতে আগ্রহ বাড়ছে ভোক্তাদেরও। পাট দিয়ে এত কিছু হয় একটা সময় ক্রেতারা উপলব্ধিও করতে পারেনি হয়তো।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাট দিয়ে তৈরি কিছু দৃষ্টিনন্দন ব্যাগ ইদানিং বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এগুলো টেকসই ও সহজেই বহনযোগ্য হওয়াতে ক্রেতারাও ধীরে ধীরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের প্রতি থাকা এতোদিনের ঝোঁক থেকে বেড়িয়ে আসছেন।

সম্প্রতি সংবাদ