মানিকগঞ্জ শহরের খালটি ময়লা ফেলার ভাগার

editor ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:২৮ জানুয়ারী,সোমবার ।
মানিকগঞ্জ জেলা শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে ময়লা আর্বজনা ফেলার ড্রেনে পরিণত হয়েছে। কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা খালটি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। কিন্তু নাগরিকদের অসচেতনা আর কর্তৃপক্ষে নজরদারীর অভাবে খালটি ময়লা ফেলার ভাগারে পরিণত হয়েছে। মশা মাছি আর দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা কষ্ঠ সাধ্য হয়ে পড়েছে।

এই খালটির পাশেই জেলা প্রশাসককের কার্যালয়, জেলা আদালত, মুক্তিযোদ্ধা শিশুপার্ক, সরকারী স্কুল-কলেজ এবং জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপারের বাসবভনসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের খালটি আর্বজনায় ভরা। কোথাও পানি জমে আছে আবার কোথাও ময়লার স্তুপের সৃষ্টি হয়েছে এবং কুচুরী পানায় ভরে আছে। আর সব জায়গা থেকে মশা-মাছির জন্ম হচ্ছে এবং ময়লার স্তুপে গরু চরানো হচ্ছে। খালের পাড়ে কয়েকটি হাইরেজ বিল্ডিং নির্মানের কারনে ওই সব স্থানে মাটি ভরাটের ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতবছরের ২৮ অক্টোবর পৌরসভার উদ্যোগে মানিকগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটির পরিচ্ছন্নতার উদ্বোধন করেছিলেন জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস। সে সময় পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমসহ সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তার কয়েকদিন পর বন্ধ হয়ে যায় পরিচ্ছন্নতার কাজ।

স্থানীয়রা জানান,র্দীঘদিন যাবৎ অপরিস্কার থাকার ফলে শহরের এই খালটি এখন শহরবাসীর প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। নির্বাচনের সময় এমপি,মেয়র ও কাউন্সিলর সবাই বলে খালটি নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু তার পর আর কারো খোজ-খবর থাকেনা। যখন দূর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় তখন মাঝে মধ্যে একটু কাজ করেন। বাকি সময় দূর্গন্ধ,অপরিস্কার,ময়লা-আর্বজনায় ভরা থাকে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করে কোন রকমে জীবন যাপন করছি। আর মশা-মাছি ও অসুখ-বিসুখ তো লেগেই আছে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে ৬ কিলোমিটার ব্যাপি খালটি অধিকাংশ স্থানেই আশে পাশে ব্যবসায়ী আর বাসিন্দারা সরাসারি ময়লা ফেলছে। পৌর সভা থেকে ময়লা ফেলার জন্য খালের পাড়ে ড্রাম দিলেও অসচেনতার কারনে ড্রামে ময়লা না ফেলে তা খালে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকটি হোটেল রেস্টুরেন্ট আর মিষ্টি দোকানের ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে খালে। সেই সাথে খালের সাথে রয়েছে সোয়ারেজ লাইনের সংযোগ।

সরকারী দেবেন্দ্র কলেজ ও মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, খালের র্দূগন্ধের কারণে তাদের যাতায়াতে সমস্যা হয়। সুস্থ্য পরিবেশের কথা চিন্তা করে দ্রুত এর পদক্ষেপ গ্রহন করার দাবী তাদের।

জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, খালটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য অভিযান শুরু করা হয়েছিল। খালটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখার জন্য নাগরিকদেরও সচেতণ হতে হবে। নাগরিক ও স্থানীয়রা সচেতণ হলে খালটি পরিস্কার রাখা সম্ভব হবে।
পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম জানান, খালটি সৌন্দয্য বর্ধনের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সচেতনতার অভাবে মানুষজন খালে ময়লা ফেলছেন। এর পরও মাঝে মধ্যেই খালটি পরিস্কার পরিচ্ছন্œতা করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে খালটি নাগরিকদের জন্য বিনোদনের স্থান হবে।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

সম্প্রতি সংবাদ