Logo
ব্রেকিং :
বঙ্গবন্ধু কাপ টেনিস টুর্নামেন্ট-২০২৩ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত      পাবিপ্রবির ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে জ্বীনের বাদশা ও তার সহযোগী গ্রেফতার নগরকান্দায় শশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  বার্ষিক ক্রীড়া  প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত  ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ অফিস বার্ষিক পরিদর্শনে রেঞ্জ ডিআইজি আদমদীঘিতে ইউএনও’র কম্বল পেলেন প্রতিবন্ধী জোৎস্না বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে চেতনানাশক খাবারে শিশুসহ ৪ জন হাসাপাতালে লোহাগড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার গোয়ালন্দে মাঠ  দিবস পালিত নাগরপুরে সরকারের উন্নয়নের ধারা প্রচারে ব্যস্ত আওয়ামীলীগ নেতা হিমু
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

কর্ণফুলী টানেলের পর এবার যমুনা পারাপারে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ

রিপোর্টার / ২৯ বার
আপডেট রবিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৯

কালের কাগজ ডেস্ক:২০ জানুয়ারী,রবিবার ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সেতু তৈরি হলে অনেক ক্ষেত্রেই নদীর পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হয়। যেখানে নদীর তলদেশে গাড়ি চলাচলের টানেল তৈরি করা গেলে নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে।’
এ দেশেই মাটির কয়েক মিটার নিচ দিয়ে হরহরিয়ে যাত্রীসমেত বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চলবে, বিষয়টি ভাবতেই অনেকের কাছে হয়তো স্বপ্নের মতো মনে হয়। আর ঠিক এই স্বপ্নটিকেই দুই প্রকল্পে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন বর্তমান সরকার। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে চট্টগ্রামে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সেবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন তিনি।

সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সমীক্ষার কাজ শেষে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজে অর্থ ছাড় করিয়ে শুরু হয় নির্মাণকাজ। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে আগামী ২০২২ সালের দিকে শেষ হবে এর কাজ। এরপর টানেল ধরে চলবে লাখ লাখ গাড়ি।

এদিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল তৈরি প্রকল্প চলমান থাকতেই নতুন মেয়াদে টানা তিনবারের মতো রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেই প্রধানমন্ত্রী জনগণকে দিয়েছেন আরও একটি সুখবর। যেখানে বলা হয়েছে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের কাজ শেষ হলেই যমুনা নদীতেও একই ধরনের একটি প্রকল্প নিয়ে এগোনোর কথা শেখ হাসিনা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে গাইবান্ধার বালাসীঘাট পর্যন্ত এই টানেল নির্মাণ হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘যমুনা নদীতে টানেল তৈরির প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ও এখনো নির্ধারিত হয়নি। ওই এলাকা দিয়ে একটি সেতু নির্মাণের দাবি আছে বৃহত্তর রংপুরবাসীর। এতে উত্তরের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। তবে সেখানে নদী অনেক ভাঙন প্রবণ এবং সেতু নির্মাণের উপযোগিতা নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।’

পুরোদমে চলছে কর্ণফুলী টানেল তৈরির কাজ:
কর্ণফুলী নদীর নেভাল একাডেমি থেকে আনোয়ারা প্রান্ত পর্যন্ত সোয়া তিন কিলোমিটার এলাকায় নদীর তলদেশের ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীর দিয়ে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা স্বরূপ নির্মাণ করা হচ্ছে দেশ তথা সার্কের প্রথম টানেল সড়ক। গত জুলাইয়ের দিকে চীন থেকে ৯৪ মিটার দীর্ঘ ও ২২ হাজার টন ওজনের অত্যাধুনিক বোরিং মেশিন আনা হয়েছে তলদেশের মাটি খুঁড়ে টিউব ঢোকানোর জন্য। এই টানেলটি নির্মাণের জন্য চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কম্পানির (সিসিসিসি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে অনেক আগেই। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আট হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এরই মধ্যে চীন অর্থায়ন করবে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে। কিন্তু প্রকল্প শুরু করতে দেরী হওয়ায় এবং নির্মাণের মেয়াদকাল ২০২২ সাল নির্ধারণ হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাবে।

নকশা অনুযায়ী এর দৈর্ঘ্য হবে তিন হাজার পাঁচ মিটার বা তিন কিলোমিটারের চেয়ে সামান্য বেশি। চট্টগ্রাম নগরীর নাভাল একাডেমি পয়েন্ট দিয়ে তলদেশে ঢুকে তা বের হবে ওপারে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি (কাফকো) এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) মাঝামাঝি স্থান দিয়ে। নদীর তলদেশে এর গভীরতা হবে ১৮ থেকে ৩১ মিটার। মোট দুটি টিউব নির্মিত হবে। এর একটি দিয়ে গাড়ি শহরপ্রান্ত থেকে প্রবেশ করবে, আরেকটি টিউব দিয়ে ওপার থেকে শহরের দিকে আসবে। টানেলের প্রতিটি টিউব চওড়ায় হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউবে বসানো হবে দুটি স্কেল। এর ওপর দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। পাশে হবে একটি সার্ভিস টিউব। মাঝে ফাঁকা থাকবে ১১ মিটার। যেকোনো বড় যানবাহন দ্রুত স্ব্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবে এই টানেল দিয়ে।

চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কম্পানি (সিসিসিসি) এবং হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অভি অরূপ অ্যান্ড পার্টনারস হংকং লিমিটেড যৌথভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রতিবেদন বলা আছে, কর্ণফুলী টানেল চালুর প্রথম বছর ৬৩ লাখ গাড়ি টানেলের নিচ দিয়ে চলাচল করবে। একসময় এই পরিমাণ এক কোটি ৪০ লাখে গিয়ে ঠেকবে। চালুর প্রথম বছরে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ হবে কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলর ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস ও মিনিবাস, আর ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোট গাড়ি থাকবে।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com