Logo
ব্রেকিং :
নেত্রকোনায় জাতীয় মহিলা সংস্থার কর্মশালা অনুষ্ঠিত সিংগাইরে ডাকাতির মালামাল ও অস্ত্রসহ ৮ ডাকাত গ্রেফতার মানিকগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন আব্দুস সালাম কেন্দুয়ায় অবরোধের সমর্থনে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল নেত্রকোনা-৪ আসনে আ’লীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল দৌলতদিয়ায়  নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন প্রকল্প বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত  সহিংসতা ছেড়ে আশাকরি বিএনপিও নির্বাচনে আসবে— স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু তৃতীয়বারের মতো মনোনয়ন পেলেন উল্লাসে আসছে নাগরপুর   মানিকগঞ্জ-১আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র নিলেন এস.এম জাহিদ নেত্রকোনায় বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় রোটারিয়ান নাজমুল হাসান
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

টাঙ্গাইলে আখ চাষে ফলন ভাল হওয়ায়, দামে খুশি চাষিরা

রিপোর্টার / ১০৬ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

মুক্তার হাসান,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:২৩ আগস্ট-২০২২,মঙ্গলবার।

টাঙ্গাইলে এবার আখের ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন চাষিরা। আখ চাষে লাভবান হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে গত বছর বন্যায় আখের ক্ষতি হওয়ায় জেলায় এ বছর চাষ কম হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেলে ও বেলে-দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য উপযুক্ত। সাত–আট মাসেই আখের ফলন পাওয়া যায়। আখ চাষ করে ধানের চেয়ে দ্বিগুণ লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর জেলায় ৪২২ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ২০ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে ৫০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত বছর বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এবার চাষিরা আখ চাষে উৎসাহ দেখাননি। তাই আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি। ৩৮৮ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। কয়েকজন আখচাষি বলেন, আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে ডাল ও তেলজাতীয় ফসলগুলো বিনা সেচে বৃষ্টিনির্ভর অবস্থায় চাষ করা যায়। সাথি ফসল হিসেবে ডাল–জাতীয় ফসল চাষে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আখ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সাথি ফসল থেকে আংশিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। পেঁয়াজ ও রসুনের পাতায় তীব্র ঝাঁজ থাকায় সাথি ফসল হিসেবে আঁখ চাষ করলে আখে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। আখের সঙ্গে সাথি ফসল চাষ করলে জমিতে আগাছা কম হয়। ফলে মূল ফসলের ফলন অনেকাংশে বেড়ে যায়। সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী, ধরেরবাড়ী, পিচুরিয়া, কৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাগানেই হলুদ রঙের আখ। দেখতে আকর্ষণীয় এবং খেতেও অনেক সুস্বাদু। প্রতিটি আখ খুচরা ১০ থেকে ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা হচ্ছে এখানকার আখ। পিচুরিয়া গ্রামের আখচাষি লুৎফর রহমান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৪২ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে আমার আখ প্রায় এক মাস আগে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করলে লাখ টাকার ওপরে হবে। আমাদের গ্রামের সবারই আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পেয়ে আমরা খুব খুশি।’অপর চাষি ধরেরবাড়ী গ্রামের রকিবুল ইসলাম বলেন, ৬৫ শতাংশ জায়গা আখ চাষ করতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার আখ বিক্রি করেছি। এ ছাড়া আখের ফাঁকে ফাঁকে আলু, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁয়াজের চাষ করেছি। কৃষ্ণপুর গ্রামের অপর চাষি হারেজ মিয়া বলেন, ‘আগে এই মৌসুমে আমন ধান চাষ করতাম। তাতে তেমন লাভ হতো না। তিন বছর ধরে আমন ছেড়ে আখ চাষ করছি। এতে অনেক লাভ হচ্ছে। ২৮ শতাংশ জমিতে এখন খরচ বাদ দিয়ে এক মৌসুমেই ৩০ হাজার টাকার বেশি লাভ হয়েছে। তবে গত বছর বন্যায় আমাদের গ্রামের অনেকের আখ বন্যার পানিতে তলিয়ে পঁচে নষ্ট হয়েছে।’ ধরেরবাড়ী হাটে আখ কিনতে আসা রফিকুল মিয়া বলেন, এবার এলাকায় আখের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তাই অপেক্ষাকৃত কম দামে কিনে খেতে পারছেন। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আহসানুল বাসার বলেন, ঈশ্বরদী-৪১ ও ঈশ্বরদী-৪২সহ নতুন কিছু আখের জাত টাঙ্গাইলে চাষ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন খুব ভালো হয়েছে। গত বছর বন্যায় যে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই এ বছর চাষ করেননি।


এ জাতীয় আরো খবর
Tech Support By Nagorikit.Com