Logo
ব্রেকিং :
গোয়ালন্দে শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেকিস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নগরকান্দায় পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার,পুলিশের সংবাদ সম্মেলন ঈশ্বরগঞ্জে বাসাবাড়ি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন দাম বাড়েনি মনোহরদীর মানুষ বিক্রির বাজারে শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে – শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি ভোলায় অবৈধ অটোরিক্সায় চাপায় এক পথশিশুর মৃত্যু কেন্দুয়ায় শীতার্থদের মাঝে রিপোর্টার্স ক্লাবের কম্বল বিতরণ আদমদীঘিতে চোলাই মদসহ গ্রেফতার ১ সান্তাহারে সাংবাদিক খোরর্শেদ আলমের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ভোলায় মাইক্রোবাস চাপায় এক নারী নিহত
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

প্রকৌশলীর বাসার গৃহপরিচারিকা নাগরপুরে শিশু মিনা আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে

রিপোর্টার / ২৮ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ ১১ এপ্রিল -২০১৯,বৃহস্পতিবার।
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মিনা (১২) নামের এক শিশু আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানা গেছে। ঐ শিশু টাঙ্গাইল সদরে থানা পাড়ায় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের বাসায় গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে টাঙ্গাইল সদর থানা পাড়ায় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের বাসায় গ্যাসের চুলায় চা বানাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয়। অগ্নিদগ্ধ মিনার বাড়ী নাগরপুর উপজেলার নন্দপাড়া গ্রামে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর ১৮ তারিখে টাঙ্গাইল সদর থানা পাড়ায় প্রকৌশলী.শফিকুল ইসলামের বাসায় গ্যাসের চুলায় চা বানাতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয় ওই শিশু। পরে আগুনে দগ্ধ শিশু মিনাকে প্রকৌশলী.শফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। মিনার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে উন্নত চিকিৎসার ঢাকা রেফার্ড করেন। কিন্তু প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আগুনে দগ্ধ মিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় না নিয়ে তার গরীব বাবার বাড়ী নাগরপুর উপজেলা নন্দপাড়া গ্রামে রেখে প্রকৌশলী দম্পতি কৌশলে পালিয়ে যায়।
এর পর থেকে মিনার বাবা কাজী আব্দুল হক তার মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। মেয়ের জীবন বাচাাঁতে হতদরিদ্র পরিবার নিজের সহায়সম্বল হারিয়ে এবং ধার দেনা করেও অগ্নিদগ্ধ মিনার সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না বলে জানা যায়।
অগ্নিদগ্ধ মিনার বাবা কাজী আব্দুল হক অভিযোগের সুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি দিনমুজরের কাজ করে পরিবারপরিজন নিয়ে জীবন-যাপন করে আসছিলাম। আমার সংসারের অভাবের দূর্বলতার সুযোগ বুজে আমাদের পাশের সলিল গ্রামের সাধু মিয়া আমার মেয়েকে‘ তার আতœীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের বাসায় গৃহপরিচারিকার (ছেলে-মেয়ে) দেখাশুনার কাজ নিয়ে দেয়। কিন্তু ওই পরিবার আমার নাবালিকা মেয়েকে দিয়ে রান্না-বান্নার কাজ করান। এক পর্যায় সংবাদ পাই আমার মেয়ে মিনা হঠাৎ অসুস্থ্য হয়েছে। পরে আমি এবং আমার স্ত্রী আমার মেয়ে মিনাকে দেখতে টাঙ্গাইলে প্রকৌশলী. শফিকুল ইসলামের বাসায় যাই। বাসায় গিয়ে জানতে পারি আমার মেয়ে মিনা অগ্নিদগ্ধ হয়েছে তাকে (মিনাকে) টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে মিনা সজ্ঞাহীন অবস্থায় পরে আছে। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসার পর কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম কৌশলে আমার মেয়ে মিনাকে সদর হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে আমার বাড়ীতে রেখে পালিয়ে যায়। এর পর থেকে ওই প্রকৌশলীর পরিবার আমার মেয়ের কোন প্রকার খোজখবর নিচ্ছেন না। প্রথমে আমার সহায়সম্বল হারিয়ে ও ধার-দেনা করে আমি আমার মেয়ে মিনার চিকিৎসা করালেও বর্তমানে আমার মেয়ে মিনাকে ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল মোললার সাহায্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্নইউনিটের ৩নং বেডে ভর্তি করা হয়েছে।
সহবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল মোললা বলেন সংবাদ পেয়ে আমি আব্দুল হকের বাড়ী গিয়ে অগ্নিদগ্ধ মিনার খোজখবর নেই এবং ওই প্রকৌশলী শফিকুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মিনার চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থার কথা স্বীকার করলেও বর্তমানে ওই প্রকৌশলীর কোন পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। পরে অগ্নিদগ্ধ মিনার শারীরিক অবস্থা দেখে তার সুচিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্নইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রকৌশল শফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নাগরপুর উপজেলার আব্দুল হকের মেয়ে মিনা আমার বাসায় গ্যাসের চুলায় অগ্নিদগ্ধ হলে তার সকল প্রকার চিকিৎসার ব্যবস্থা আমি করে আসছি বলে তিনি দাবী করেন।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com