Logo
ব্রেকিং :
ছায়াপথ সাহিত্য পরিষদের  প্রথম সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত  নাগরপুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন;সভাপতি ফজলুর রহমান , সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল রউফ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ৬১অবৈধ করাতকল  গোয়ালন্দে শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেকিস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত নগরকান্দায় পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার,পুলিশের সংবাদ সম্মেলন ঈশ্বরগঞ্জে বাসাবাড়ি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন দাম বাড়েনি মনোহরদীর মানুষ বিক্রির বাজারে শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে – শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি ভোলায় অবৈধ অটোরিক্সায় চাপায় এক পথশিশুর মৃত্যু কেন্দুয়ায় শীতার্থদের মাঝে রিপোর্টার্স ক্লাবের কম্বল বিতরণ
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

প্রবাসী প্রকৌশলীদের প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে কাজ করুন–প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার / ২৩ বার
আপডেট বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

কালের কাগজ ডস্ক:২৭ ফেব্রুয়ারী,বুধবার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের এ মাটিরই সন্তান আখ্যায়িত করে দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনাবাসিক প্রকৌশলীরা দেশের তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্পোৎপাদন, যোগাযোগ এবং সমুদ্র সম্পদ আহরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন।

তারা পলিসি লেভেল চ্যালেঞ্জ এবং ইন্সটিটিউশন লেভেল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে পারেন।’ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনাবাসী (এনআরবি) প্রকৌশলীদের প্রথম কনভেনশনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নটা কেবল শহর কিংবা রাজধানীভিত্তিকই নয়, তার সরকার গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনারা যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, বাংলাদেশের কোনো না কোনো গ্রামেই আপনাদের বাড়িঘর, সেখানে আপনাদের শিকড় রয়ে গেছে।

শিকড়ের সন্ধান করে আপনাদের যার যার অঞ্চলের কীভাবে উন্নয়ন করতে পারেন, আপনাদের কাছে সে অনুরোধ আমি করব। আপনারা সেদিকটাতেও একটু বিশেষভাবে নজর দেবেন।’

তিনি প্রবাসী প্রকৌশলীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘বিদেশে আছেন এটা ঠিক, কিন্তু এই মাটির সন্তান আপনারা। এই দেশ এই মাটি ও মানুষ এটাই আপনাদের মূল জায়গা। এটাই আপনাদের শিকড়। আর এই শিকড়ের সন্ধানেই আপনারা আজকে এসেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রবাসী প্রকৌশলীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ব্রিজ টু বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে সরকারের নীতিগত পর্যায়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অনাবাসী প্রকৌশলীরা কীভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে অবদান রাখতে পারেন সেজন্যই দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং ব্রিজ টু বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান আজাদুল হক বক্তৃতা করেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মনোয়ার আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন।

পরের অনুষ্ঠানে কিনোট পেপার উপস্থাপন করেন ‘কনভেনশন অন এনআরবি ইঞ্জিনিয়ারস’র উপদেষ্টা ও ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা যে পলিসি লেভেল চ্যালেঞ্জ এবং ইন্সটিটিউশন লেভেল চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে চিহ্নিত করেছেন সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে এই দেশের যেন আমরা ভালোভাবে উন্নয়ন করতে পারি সে বিষয়গুলোও আপনারা দেখবেন।

আর আপনাদের এই ফাস্ট কনভেনশন অব এনআরবি ইঞ্জিনিয়ার্স-২০১৯ এর প্রহণযোগ্য সুপারিশসমূহ নিয়ে ভালো একটা নীতিমালা আমরা গ্রহণ করতে পারব বলেই আমি মনে করি এবং সেভাবেই এটা তৈরি করবেন।

তার সরকার ১০ বছরে দেশের অভূতর্পূব উন্নয়ন করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, খাদ্য মজুদের জন্য সরকার আধুনিক খাদ্য গোডাউন এবং সাইলো তৈরি করছে কারণ আমাদের দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ বিধায় দুর্যোগ হলেও যেন খাদ্য সমস্যা না হয়। কখনও আর কারও কাছে যেন হাত পাততে না হয়।

স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সালে বহির্বিশ্বের কারও কারও মদদে দেশে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে যে, অন্যের কাছে খাবার আনতে যেয়ে আমাদের দেশে সময়মতো এই খাদ্য না পাঠিয়ে দুর্ভিক্ষ ঘটানোরও চক্রান্তে বাংলাদেশ পড়েছিল। সেটা যাতে না হয় তার জন্যই আমরা আপৎকালীন খাদ্য মজুদের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

তিনি দেশের বর্তমান উন্নয়নে প্রবাসীদের অংশহণমূলক সহযোগিতার উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদেরও অবদান রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রবাসীদের অর্জিত অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। কাজেই সেদিক থেকে আমরা সবসময়ই প্রবাসীদের সম্মানের চোখে দেখি।

প্রধানমন্ত্রী মেধা পাচার প্রসঙ্গে বলেন, একটা কথা সবসময় বলা হয় যে, ব্রেইন ড্রেইন। আমি সেটা মনে করি না। বরং আমাদের দেশে তো লোকের অভাব নেই, যুব সমাজের অভাব নেই। আমরা যদি তাদের সুশিক্ষিত করতে পারি তাহলে তারা দেশে থেকেই যে দেশের উন্নয়ন করতে পারে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশটাকে যদি দেখেন তাহলে অবশ্যই সেটা সম্ভব বলে আপনারাও মেনে নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, বিদেশে যারা লেখাপড়া করতে গিয়ে থেকে যান বা বিভিন্ন ব্যবসায়িক কারণে বা কর্মসূত্রে বিদেশে গিয়ে যারা প্রবাসী হয়ে যান, তারা যে অভিজ্ঞতাটা সঞ্চয় করেন তার মূল্যও কম নয়।

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। অনেক দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তি থাকার ফলে ডাবল ট্যাক্সেশন আমরা অ্যাভয়েড করতে পারি। বিনিয়োগকারীরা চাইলেই তাদের মুনাফা এবং আসলসহ তারা চলে যেতে পারবেন। মেশিনারি আমদানিতে ট্যাক্স হলিডে পাবেন।’

তার সরকার সারাদেশে যে একশ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে সেখানে সরকার প্রদত্ত সুযোগ গ্রহণ করে বিনিয়োগে বিদেশিদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এগিয়ে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে তিনটা এনআরবি ব্যাংক আমরা করে দিয়েছি।’ রফতানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছি এটা ঠিক। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, একটা জিনিসের রফতানির ওপর নির্ভর করে কোনো একটা দেশ চলতে পারে না। আমাদের রফতানিকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রফতানির মাধ্যমেও আমরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com