Logo
ব্রেকিং :
বঙ্গবন্ধু শুরুর সময়, একটি ডলারও ছিল না- মানিকগঞ্জে গৃহায়ন মন্ত্রী রাণীশংকৈলে প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা  নবাবগঞ্জে প্রাণী সম্পদ প্রদর্শনী-২০২৪ উদ্বোধনী /সমাপনী অনুষ্ঠান সমাজসেবার বিশেষ অবদানে সম্মাননা স্মারক পেলেন দৌলতদিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান রহমান মন্ডল ভিক্ষা ছেড়ে  বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ চাহিদা সম্পর্ণ রতনদের পাশে প্রশাসন। টাঙ্গাইল শহরে থমথমে অবস্থা ॥ ককটেল বিস্ফোরণ আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ পুলিশি বাঁধায় পন্ড  দৌলতপুরে প্রাণি সম্পদ প্রদর্শণী নাগরপুরে প্রাণীসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী  অনুষ্ঠিত  ঘুমন্ত স্বামীর গোপণাঙ্গ কেটে সন্তান রেখেই পালালেন স্ত্রী ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে শারদীয় দুর্গোৎসবে সকল প্রস্তুতি শেষ, বাজবে ঢাক-ঢোল-শানাই

রিপোর্টার / ১২১ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,নিজস্ব প্রতিবেদক :২৯ সেপ্টেম্বর-২০২২,বৃহস্পতিবার।
আগামী শনিবার থেকে বাঙ্গালী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। বর্ণাঢ্য ধর্মীয়, সামাজিক ও সাস্কৃতিক উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলা বিভিন্ন মন্দিরগুলো।

পঞ্জিকা মতে, এবার দুর্গা দেবীর গজে আগমন এবং নৌকায় গমন। শরৎকালে দেবতাদের হয়ে অসুরকে ধ্বংস করার লক্ষে পৃথিবীতে দুর্গার আগমন ঘটে। শরৎকালে দেবীর এ পুজাকে বলা হয় অকাল বোধন। বিভিন্ন মন্দির গুলোতে শিল্পীরা ফরমায়েশ অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজে মহাব্যস্ত। প্রতিমা কাঠামোতে খড় এবং মাটি লাগানোর কাজ শেষ। রং এবং তুলির কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রতিমার চোখ, হাতের আঙ্গুল, মুখমন্ডল, তৈরিসহ প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন কারিগর রাতদিন নিরলশ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রং এবং তুলির ছোয়ায় প্রতিমার রুপ ও সৌন্দয্য আনার কাজ নিয়ে প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

মনিকগঞ্জে মোট ৫৫০টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা সদরে ৮৮টি, পৌরসভায় ৩৩টি, ঘিওরে ৮৩টি, শিবালয়ে ৯১টি, দৌলতপুরে ৪৮টি, সিংগাইর পৌরসভায় ১০টি, সিংগাইর সদরে ৫৭টি, হরিরামপুরে ৬৪টি, সাটুরিয়া ৭৬টি। তবে গত বছর ৫০১টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়। মানিকগঞ্জে এবার ৪৪ টি মন্দিরে পূজা বেশি হচ্ছে।

ষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রন ও অধিবাস,সপ্তমীতে আগমন, অষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সব নারীর মধ্যেই দেবী দুর্গার শক্তি আছে। তাই নারীদের মায়ের দৃষ্টিকোন থেকে একজন কুমারীকে দেবীর আসনে বসিয়ে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধি স্থলে সন্ধি পূজা করা হয়। শেষে দশমী পূজা। ঘিওর লোকনাথ মন্দিরে অবিণাশ পাল তার সাগরেদদের নিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত। মাটির ভাস্কর্য্য তৈরিতে তারা পারদর্শী। নরম কাঁদা মাটি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে তুলেছেন দশভুজ্য দুর্গাদেবীর প্রতিমা। একই সঙ্গে গনেশ,কার্তিকসহ অন্যান্য প্রতিমার। অবিণাশ পাল দুর্গাদেবীর মুখাকৃতি রাগান্বিত করলেও, কৃত্রিম হাসির মাঝে তা ফুঁটিয়ে তুলেছেন। ১০ হাতে দুর্গা ত্রিসূল দিয়ে বধ করছেন যমদুত অশুরকে। আর ১০ হাতে দুর্গার ১০ চক্র লীলা ভঙ্গীতে নতুনন্ত আনার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা। লীলা এবং গুনের বিষয়টি অত্যন্ত নিখঁতভাবে ধরা হয়েছে।

শরৎকালে দুর্গোৎসবে আনন্দ এখন থেকেই ভক্তরা প্রহর গুনছে মাহেন্দ্রক্ষনের। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মনে সাজ সাজ রব। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েরা মাতৃত্ব বন্দনায় অপার মহিমায় বিভিন্ন রং এ সাঁজে। বিধাতার অপার মহিমায় এ ঋতুতে বিলে ঝিলে ফোঁটে পদ্ম ও শাপলা। বিস্তৃর্ণ আকাশে চাঁদের হাসির সাথে সমস্ত আনন্দ উল্লাস একাকার হয়ে যায়। শরৎকালে রঙ্গিন পৃথিবীতে দুর্গা দেবীর নতুন আবির্ভাব। এ যেন শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। তবে আর কয়েক দিনের মধ্যেই দুর্গাদেবী উঠবে বেদীতে। বাজবে ঢাক, ঢোল, শঙ্খ, সানাই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা মহাশক্তির প্রতীক। সেই মহাশক্তিকেই তারা প্রতিমার মধ্য দিয়ে চিম্ময়ী ব্রম্বাশক্তিকে দর্শন করে। মানিকগঞ্জের বানিয়াজুরী অমুল্য মালাকারের বাড়িতে এবং ঘিওর কচি কাঁচা মিলন সংঘ, ঘিওর কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি, ঘিওর লোকনাথ মন্দির, ঘিওর শতদল সংর্ঘের উদ্যোগে সবচেয়ে ব্যয় বহুল ভাবে প্রতিমা তৈরি করা হয়। হাজার হাজার লোকজন দুর্গা-দেবী দেখতে মন্দিরগুলোতে সমবেত হয়।

জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অর্নিবাণ কুমার পাল জানান, ব্যাপক আনন্দ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জে সকল সম্প্রদায়ের লোকজন একত্রিত হয়ে শারদীয় উৎসবে আনন্দ উৎসব করে। পূজা উৎযাপন কমিটির উদ্যোগে একটি টিম সার্বক্ষনিক মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে। ইতোমধ্যে আমরা ৭টি উপজেলার মন্দিরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। একাধিক সভা ও মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ গোলাম আজাদ জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবে আইন শৃঙ্খলা সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ, আনসার মোতায়ন করা হবে। জেলা পযায়ে একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে। ইতোমধ্যে শহরের এবং ৭টি উপজেলার সকল মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট বোডের পরিচালক এ এম নাঈমুর রহমান দুজয় জানান, দুর্গোৎসবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই অংশ গ্রহন করে। রাজনৈতিক, সামাজিক সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিটি মন্দিরে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে মিলন মেলায় পরিনত হয়। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ একটি দেশ। আবহমানকাল থেকে আমাদের এ দেশে হিন্দু , মুসলমান বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন মিলে মিশে বসবাস করে। কাজেই দুর্গা পূজাটি সার্বজনীন। আমরা সকলেই মিলেমিশে উৎসবটি উপভোগ করি। সমস্ত খারাপ কিছু পরিহার করে মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ন সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলি। শরৎকালে সু-বাতাসে শান্তিপূর্ন হোক এ বসুন্ধরা।

 

 


এ জাতীয় আরো খবর
Tech Support By Nagorikit.Com