Logo
ব্রেকিং :
হস্ত ও কুটির শিল্পকে বিশ্ব বাজারে পৌছে দেয়া হবে—– বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী দৌলতপুরে উপজেলা প্রশাসনের বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন দৌলতপুরে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সাবেক সাংসদ দূর্জয়ের শুভেচ্ছা বিনিময় নাগরপুরে আ.লীগ নেতাকর্মীদের ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন তারানা হালিম এমপি রাণীশংকৈলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু মির্জাপুরে ফিল্মি স্টাইলে অপহরণকারী আটক রাজবাড়ীতে ‘হার পাওয়ার’ প্রকল্পের আওতায় নারীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করেন—–রেলপথ মন্ত্রী মোঃ জিল্লুল হাকিম নাগরপুরে একতা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থার বস্ত্র বিতর  নাগরপুরে শিল্প উদ্যোক্তা কোমলের উদ্যোগে মুসল্লিদের ঈদ উপহার প্রদান
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

শিবালয়ে টিএইচএ’র নির্দেশে চলমান অবৈধ ডায়াগনস্টিক প্রতিবেদনের পর বন্ধ

রিপোর্টার / ১২৭ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

সুরেশ চন্দ্র রায়, নিজস্ব প্রতিবেদক ১৪ জুন,২০২২,মঙ্গলবার।
“আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা চলছে কার্যক্রম” শিরোনামে দৈনিক ভোরের কাগজের ৭ম পাতায় গত ১২ জুন রোববার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের পর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী হাসপাতাল গেটের সামনে অবস্থিত ইছামতি ডায়াবেটিস এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি পূনরায় বন্ধ হয়ে যায়।
দেশের সমগ্র অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বন্ধের  বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কড়া নির্দেশনা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (২৯ মে) ভ্রাম্যমান আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক মানিকগঞ্জ সদরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩টি ক্লিনিককে আর্থিক অর্থদন্ড এবং ৫টি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। কিন্তু শিবালয়ের ইছামতি ডায়াবেটিস এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাদের কার্যক্রম চলমান রেখেছিল।
গত মঙ্গলবার (৭ জুন) দুপুর নাগাদ ইছামতি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীদের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও এক্স-রে, ইসিজি ও আল্ট্রা সনোগ্রাম করাতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক আবু দাউদ এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেট না থাকার কারণে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে এখন তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেটের জন্য সিভিল সার্জন অফিসে আবেদন করেছেন। সেই আবেদন কপি শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএ ডাঃ ফজলে বারি সাহেবকে দেখালে তিনি আমাকে প্রতিষ্ঠান চালু রাখতে বলেছেন। এই কারণে আমি আমার প্রতিষ্ঠান চালু রেখেছি। ওই দিন শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর টিএইচএ ডাঃ ফজলে বারি জানান, ইছামতি ডায়াবেটিস এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেট না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপডেট করেছেন। তাই আমি তাদেরকে প্রতিষ্ঠান চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছি। একই দিন মানিকগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোয়াজ্জেম আলী খান প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, ভ্রাম্যমান আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অভিযানে যে সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠান যদি পূনরায় ব্যবসা করতে চায় তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে অবশ্যই শতভাগ স্বচ্ছ হতে হবে। শুধূ আবেদন পত্রের কপি দিয়ে ব্যবসা করা যাবেনা। ভ্রাম্যমান আদালতের আদেশে বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালুর বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমাকে অবগত না করে একজন টিএইচএ কোনভাবেই ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে  প্রতিষ্ঠান চালু রাখার বিষয়ে কোনভাবেই মৌখিক অনুমতি দিতে পারেননা। আমার কাছে সবাই সমান। কেউ সম্পর্কের খাতিরে সুবিধা নেবে এটি কখনো হতে পারেনা।
১২ জুন দৈনিক ভোরের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর ১৩ জুন সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে ঝুলছে তালা। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু দাউদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের নাকি এখন সকল কাগজপত্র ঠিক আছে তাহলে তালা ঝুলছে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কিছুই জানিনা। টিএইচএ স্যার তখন খোলা রাখতে বলেছিলেন তাই খোলা রেখেছিলাম। নিউজের পর বন্ধ রাখতে বলেছেন তাই বন্ধ রেখেছি।
শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচএ ডা. ফজলে বারি বলেন, সিভিল সার্জন স্যার ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন। আপনি ইতোপূর্বে বলেছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের সকল কাগজপত্র এখন ঠিক আছে তাহলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হলো কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কিছুই জানিনা। আপনি সিভিল সার্জন স্যারের সাথে কথা বলেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তা ব্যক্তির মোটা অংকের অর্থ লেনদেন না হলে তিনি কখনও অবৈধ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র চালু রাখার বিষয়ে অনুমতি দেননি। কিন্তু যখন পত্রিকায় এ মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তখন তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান ১৩ জুন রাতে মোবাইল ফোনে প্রতিবেদককে জানান,অবৈধ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেনা আমার এখান থেকেই যায়। শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর টিএইচএ এই প্রতিষ্ঠান কিভাবে খোলা রাখার অনুমতি দিলেন সেটি আমার অবস্থান থেকে এই মুহূর্তে বলাটা মুশকিল। এ বিষয়ে আসলে আমাকে বিস্তারিত জানতে হবে কোন কারণে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন।
Attachments area


এ জাতীয় আরো খবর
Tech Support By Nagorikit.Com