Logo
ব্রেকিং :
ভোলায় অবৈধ অটোরিক্সায় চাপায় এক পথশিশুর মৃত্যু কেন্দুয়ায় শীতার্থদের মাঝে রিপোর্টার্স ক্লাবের কম্বল বিতরণ আদমদীঘিতে চোলাই মদসহ গ্রেফতার ১ সান্তাহারে সাংবাদিক খোরর্শেদ আলমের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ভোলায় মাইক্রোবাস চাপায় এক নারী নিহত চারদিনেও পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর রসহ্য উদঘাটন হয়নি অজ্ঞাত লাশের নাগরপুরে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা নতুন কমিটি গঠন ; সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক বাবু ঘিওরে ৯৭’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ‘রজত জয়ন্তীতে’ র‌্যালি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দৌলতপুর থানায় ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে বিজয়ী যুবলীগ দৌলতপুর থানায় ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে রানার্স আপ দৌলতপুর প্রেসক্লাব
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

শিবালয়ে বেড়িবাঁধ ও সড়কের নিচের অংশে ধস হুমকির মুখে এলাকাবাসী

রিপোর্টার / ২৪ বার
আপডেট শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ১২ এপ্রিল ২০১৯শুক্রবার।
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে নিহালপুর এলাকায় পদ্মা-যমুনা বেড়িবাঁধ কাম আরিচা-জাফরগঞ্জ সড়কের নীচের অংশ ধসে পড়ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে ও স্পিডবোর্টের ঢেউয়ের কারণে নদীর পাড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোন সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। ফলে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে নিহালপুর, তেওতাসহ কয়েকটি গ্রাম ও আরিচা-জাফরগঞ্জ সড়ক। এতে বন্ধ হয়ে যাবে আরিচার সাথে জাফরগঞ্জ, পয়লা, ধসুর, ষাইটগড়, তেওতা এলাকার যোগযোগ ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যাবে নিহালপুর, ঝিকুটিয়া, নারায়ন তেওতা এলাকার ফসলের জমি। বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হবেন এ এলাকার লোকজন। এমন পরিস্থিতিতে চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

নিহালপুর এলাকার স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, তৎকালিন সময়ে বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ করে নদীর পানিতে তলিয়ে যেতো ফসলি জমি। জমির ফসল রক্ষার্থে ১৯৬২-৬৩ সালের দিকে তৎকালিন তেওতা ইউপি চেয়ারম্যান হারেজ মিয়া যমুনা নদীর পাড় দিয়ে নির্মাণ করেন এ বেড়ি বাঁধ। আরিচা থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত এর দৈঘ্য ৯কিলোমিটার। পরবর্তিতে এ বাঁধটিই রাস্তায় পরিণত হয়েছে । এটি এখন আরিচা-জাফরগঞ্জের মধ্যে সহজ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ফলে অত্র এলাকার হাজার হাজার নাগরিক উপকৃত হচ্ছেন। প্রায় ৫ যুগ আগে নির্মাণ করা হয় এ বেড়িবাঁধ কাম রাস্তা। আরিচা ১ নং ফেরি ঘাট থেকে নিহালপুর ১ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মিটার রাস্তার নিহালপুর অংশে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুম আসলে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙ্গন দেখা দিত। ভাঙ্গন রোধে বাঁশ দিয়ে প্যালাসাইটিং করে অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হতো।
পরবর্তিতে ২০১৩-১৪ সালে উক্ত স্থানে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে নদীর পাড়ে নীচ থেকে সিমেন্টের খুটি দিয়ে প্যালাসাইটিং করে ওপরের অংশে ব্লক বসিয়ে মেরামত করা হয়। এতে বেশ কয়েক বছর নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পায়। রাস্তাটি দেখতেও বেশ দৃষ্টিনন্দন। কিন্ত এ বছর নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্যালাসাইটিংয়ের নীচের অংশে পানির ঢেউয়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙ্গন রোধ করা না হলে একদিকে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত রাস্তাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে সরকারী অর্থের অপচয় হবে। অপরদিকে বন্ধ হয়ে যাবে আরিচা-জাফরগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্ষকালে পানিতে তলিয়ে যাবে তেওতা ইউনিয়নের নিহালপুর,ঝিকুটিয়া ও নারায়ণ তেওতাসহ আসে -পাসের এলাকার বাড়ি-ঘর ও আবাদী ফসলি জমি। এছাড়া আরিচা ঘাটের পুরাতন টার্মিনাল, নিহালপুর ১ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর নিহালপুর মসজিদ ও কবরস্থান নদী গর্ভে তলিয়ে যাবে।
নিহালপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ শেখ বলেন, বাতাস এবং স্পিডবোড চলাচলের কারণে নদীতে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এ ঢেউয়ে রাস্তাটি ভাঙ্গছে তবে জিও ব্যাগ ফেলে এ ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
হ্যালোবাইক চালক কিতাব আলী জানান, আরিচা-জাফরগঞ্জ রাস্তায় ৬০টি হ্যালোবাইক ও প্রায় শতাধিক রিক্সা চলাচল করে। এর মধ্যে অনেকেই এনজিও থেকে কিস্তির টাকা উঠিয়ে হ্যালোবাইক ক্রয় করে কিস্তি দিচ্ছি আর সংসার চালাচ্ছে। নদী ভাঙ্গনে রাস্তা ভেঙ্গে গেলে আমাদের হ্যালোবাইক চালানো বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে পড়তে হবে। এমতাবস্থায় এ রাস্তা দিয়ে মাটি, রড,সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তেওতা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, এক সময় বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর পানিতে নিহালপুরসহ শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ জমির ফসল তলিয়ে যেতো। জমির ফসল রক্ষার্থে তৎকালিন তেওতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারেজ মিয়া নদীর পাড় দিয়ে আরিচা থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেন। যা পরবর্তিতে আরিচা-জাফরগঞ্জ রাস্তায় পরিণত হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, চরকাটারী, জিয়নপুর, ইসলামপুর, শিবালয় উপজেলার রাহাতপুর, জাফরগঞ্জ, পয়লা, ধুসর, ষাইটঘর তেওতাসহ বিভিন্ন এলাাকার হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে এ রাস্তা দিয়ে। এছাড়া তেওতা জমিদার বাড়ি যাওয়ার এক মাত্র রাস্তা এটি। জমিদার বাড়ি দেখার জন্য দেশী-বিদেশী অনেক পর্যটকদের যাতায়াত এ রাস্তা দিয়ে। ফলে এ রাস্তাটির অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
তেওতা ইউনিয়নের চেয়াম্যান আব্দুল কাদের বলেন, এব্যাপারে শিবালয় উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন। তারা এসে দেখে গেছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও যতটুকো সম্ভব ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করবেন বলেন তিনি জানান।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মাওলা মেহেদী হাসান বলেন, শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের নিহালপুরে নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং তিনি তার দপ্তরের লোক দিয়ে স্থানটি পরিদর্শন করিয়েছেন। বিষয়টি তাদের উর্দ্ধনত কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ভাঙ্গন রোধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com