Logo
ব্রেকিং :
হস্ত ও কুটির শিল্পকে বিশ্ব বাজারে পৌছে দেয়া হবে—– বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী দৌলতপুরে উপজেলা প্রশাসনের বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন নগরকান্দা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উদযাপন দৌলতপুরে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সাবেক সাংসদ দূর্জয়ের শুভেচ্ছা বিনিময় নাগরপুরে আ.লীগ নেতাকর্মীদের ঈদ উপহার পৌঁছে দিয়েছেন তারানা হালিম এমপি রাণীশংকৈলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু মির্জাপুরে ফিল্মি স্টাইলে অপহরণকারী আটক রাজবাড়ীতে ‘হার পাওয়ার’ প্রকল্পের আওতায় নারীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করেন—–রেলপথ মন্ত্রী মোঃ জিল্লুল হাকিম নাগরপুরে একতা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থার বস্ত্র বিতর  নাগরপুরে শিল্প উদ্যোক্তা কোমলের উদ্যোগে মুসল্লিদের ঈদ উপহার প্রদান
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

সিংগাইরে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ৮০ মে.টন খাদ্য শস্য আত্মসাতের অভিযোগ

মুহ. মিজানুর রহমান বাদল,স্টাফ রিপোটার / ৯৩ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩

মুহ. মিজানুর রহমান বাদল,স্টাফ রিপোর্টার:০৩ আগস্ট-২০২৩,বৃহস্পতিবার।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৬ টি প্রকল্পে একক গৃহ নির্মাণ স্থলে মাটিভরাট বাবদ ৭৯.১৯৮ মে. টন খাদ্যশস্য (গম) আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেব নাথের বিরুদ্ধে। যারবাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। প্রকল্পগুলোতেবরাদ্দ ও উত্তোলনকৃত খাদ্য শস্যেও ব্যাপাওে কিছুই জানেন না সভাপতিরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,২০২২-২৩ অর্থ বছরেউপজেলার ৬ টিইউনিয়নে ৯২ টি ঘরের মধ্যে বায়রার চাড়া ভাঙ্গা মৌজায় ১৬টি, তালেব পুর ইউনিয়নের বারতালুক গোলড়া মৌজায় ১১ টি, সায়েস্ত াইউনিয়নের লক্ষীপুর মোৗজায় ১০ টি, বলধারা ইউনিয়নে রব্রী-কালিয়াকৈর মৌজায় ৮ টি, জামসা ইউনিয়নের পশ্চিমজামসা মৌজায় ৮ টি ও চারিগ্রাম ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও মৌজায় ৩৯ টি একক গৃহনির্মাণ কার্যক্রম গ্রহন করেন সরকার। আর ওই প্রকল্প গুলোতে মাটি ভরাট বাবদ ৮৭.১৯৮ মে. টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেয়া হয়। ৬ টি প্রকল্পের ৫ টিতে ওয়ার্ড মেম্বার ও একটিতে চেয়ারম্যানকে সভাপতি করা হয়। ইউএনও’র অনুমতি সাপেক্ষে ৩ টি প্রকল্পের সভাপতি কালিগঙ্গা ও ধলেশ^রী নদী থেকে বালুউত্তোলন করে ভরাট করেন। পাশা পাশিবাকি ৩ টি প্রকল্পে সংলগ্ন জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ভরাট করা হয়। ৬ টি প্রকল্পেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহাদী হোসেনের যোগসাজসে বিল-ভাউচার তৈরি কওে প্রকল্প সভাপতিদের সই-স্বাক্ষর নিয়ে ৮৭.১৯৮ মে.টন খাদ্য শস্যের স্থলে ৭৯.১৯৮ মে.টনবিক্রি করে সামান্য কিছু খরচ দেখিয়ে পুরো টাকাই লোপাট করা হয়। বাকী ৮ মে.টন অনুত্তোলিত দেখানো হয়। এ থেকে প্রকল্প সভাপতিরা কোনো টাকা পয়সা পায়নি বলে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
দক্ষিণ চারিগ্রামে একক গৃহনির্মাণ স্থলে মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি ও চারিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. রিপন হোসেন বলেন, আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। এ প্রকল্পে কত মে.টন গম বরাদ্দ ছিল তাকিছুই জানিনা। ইউএনও স্যার কিছুটাকা দিয়ে ছিলেন, নদী পাড়ের আমার নিজের জমি থেকে ও কালিগঙ্গা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে ওই জায়গা ভরাট করে দিয়েছি।
ঊলধারা ইউনিয়নে রব্রী-কালিয়াকৈর মৌজায় একক গৃহনির্মাণ স্থলে মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি ও ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য হায়দার আলী ওরফে তারা মেম্বার বলেন, এটা ইউএনও স্যার আমার নামে সাড়ে ৭ মে.টন গমের একটি প্রজেক্ট দিয়ে তিনি নিজ দায়িত্বে কাজটি করেছেন। মাটি ফেলার সময় ভেকুমালিককে নিজের পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সে টাকা পাইনি। তিনি আরো বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে ডিসি স্যারের কাছে অভিযোগ দিতে চেয়ে ছিলাম। জলে বাস কওে কুমিরের সাথে লড়াই চলেনা বিধায় আমাদের ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে তা দেইনি।
তালেবপুর ইউনিয়নের বারতালুক-গোলড়া মৌজার প্রকল্পসভাপতি ও ৩ নংওয়ার্ড মেম্বার ইদ্রিস আলী বলেন, আমি সভাপতি ছিলাম ঠিকই পুরো কাজটি করেছেন নায়েব সাহেব ও ইউএনও স্যারের দায়িত্বে। আমি দেখা শুনায় ছিলাম এবং স্বাক্ষও করেছি মাত্র। এছাড়া ওখানে আমাদের কোনো মাতাব্বরি ছিলোনা। সায়েস্তারলক্ষীপুর মৌজার প্রকল্প সভাপতি এবং সংরক্ষিত ৭,৮ ও ৯ নংওয়ার্ড মেম্বার ঝর্না আক্তার বলেন,ওটা ইউএনও স্যার করেছেন আমাকে নামে মাত্র  সভাপতি দিয়েছিলেন। আমাদের চেয়ারম্যান পিআইও অফিসে গিয়েসই-স্বাক্ষর দিতে বলেছিলেন, দিয়েছি। এছাড়া আমাকে কিছুই জানাননি।
চাড়াভাঙ্গা মৌজার প্রকল্প সভাপতি এবং সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬ নংওয়ার্ড মেম্বার শাহানাজ বেগম বলেন, মাটি ভরাট প্রকল্পে আমি সভাপতি ছিলামএবং ঘর ওঠানোর কাজে ও ডিউটি করেছি, কিন্তু আমাকে কিছুই দেননি। এটা ইউএনও স্যারের কাজ জানতে পেরে পিআইও স্যারের  অফিসে গিয়ে বিল-ভাউচারে সই-স্বাক্ষর দিয়ে এসেছি।
মাটিব্যবসায়ি ও ভেকুমালিকমিজানুর  রহমান বলেন, ব্রী-কালিয়াকৈর মৌজায় মাটি ভরাটের কাজ টি গৃহনির্মাণ স্থলের পাশ থেকেই করে দিয়েছি। লাখখানেকটাকারমতোবিলহয়েছিলো, তারমধ্যে তারা মেম্বারেরকাছ থেকে ২৫ হাজারটাকা পেয়েছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.আহাদী হোসেন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার কওে বলেন, বাস্তবে সব জায়গাতেই মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। এ কাজে মেম্বার সাহেবদের দেখ ভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। দু’একজনকারো উস্কানিতে প্রশ্নবিদ্ধ কথা বার্তা বলতে পারেন। আর প্রকল্প সভাপতির াবিষয়টি না জানলে এটাওতাদের একটা অপরাধ।
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথ বলেন, মাটি ভরাটের বিষয়ে প্রকল্প যে ভাবে হয় সেভাবেই হয়েছে এবং প্রকল্পের ডিও দেয়া হয়েছে। কাজ গুলো হয় প্রকল্প সভাপতিদের মাধ্যমে, তারা যদি না জানেন তাহলে আমিও জানবো না। অফিসিয়ালিতো না বলার সুযোগ নাই । কাজ করার টাকা দেয়া হয়েছে, কাজ ও হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকারি প্রজেক্টের ক্ষেত্রে নদী থেকে বালু উত্তোলন কওে ভরাটের বিধান রয়েছে। ব্যক্তি গত ভাবে আমার কোনো কিছু করার সুযোগ নাই।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের সদ্য যোগদানকৃত জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার বলেন, যিনি প্রকল্প সভাপতি তিনি জানবেন না কেন? এটা তার ব্যক্তিগত দায়। না জেনে সাইন দিবেন কেন? এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়। আমার সাথে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সাথে বসে কোথাও কোনো গ্যাপ থাকলে অচিরেই তা সুষ্ঠু ও সুন্দও ভাবে হয়ে যাবে।


এ জাতীয় আরো খবর
Tech Support By Nagorikit.Com