Logo
ব্রেকিং :
বিপিএলের ট্রফি গেল বরিশালে শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী বেইলি রোডের আগুনে মৃত ৩৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, হস্তান্তর ২৯ বেইলি রোডের আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যু : আশঙ্কাজনক ১৯ ঘিওরে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেললো দুর্বৃত্তরা রাণীশংকৈলে জাতীয় বীমা দিবস পালন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা  নগরকান্দায় কুকুরের কামড়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ আহত -১০ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হমলা লুটপাট গোয়ালন্দে দীর্ঘ দিন পর  শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম শুরু, চলছে শিক্ষার্থী ভর্তি গোয়ালন্দে পায়াকট বাংলাদেশের  সেফ হোমে ইউএনও’র মানবিক সাহায্য প্রদান নেত্রকোনায় দি হলি চাইল্ড কিন্ডার গার্টেনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

সৈয়দপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল ও ভবন ঘেষে বহুতল স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

রিপোর্টার / ৫৯ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:০৪ আগস্ট-২০২২,বৃহস্পতিবার।

একটি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন তলা ক্লাস ভবন ঘেষে বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় প্রতিষ্ঠানটির সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা জায়গা দখল করেছে ওই স্থাপনার মালিক। পৌরবিধি মোতাবেক বহুতল ভবন করার ক্ষেত্রে যে নীতিমালা রয়েছে তা যেমন মানা হয়নি তেমনি নকশা অনুমোদনে টাকার খেলা হয়েছে। যে কারনে রাতারাতি ভারপ্রাপ্ত মেয়র কর্তৃক নকশায় স্বাক্ষর নিয়ে তড়িঘড়ি করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন নিয়মকে তোয়াক্কা করা হয়নি। এমন অভিযোগ মিলেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।
সৈয়দপুর শহরের সুনামধন্য ওই প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কলেজের মূল ভবনের পাশে উত্তর দিকে আব্দুল ওয়াদুদ টেনিয়া নামে এক ব্যক্তির ৫ শতক জমি আছে। এরপরই রেলওয়ের ২ শতক জমি ও পৌরসভার বড় ড্রেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্টগামী সড়ক। দীর্ঘ দিন থেকে টেনিয়ার ওই জমিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য বলা সত্বেও তিনি দেন নাই।
এতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক এমপি ও পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার ওই ৫ শতকের পরিবর্তে দক্ষিন দিকে (স্কুলের পেছনে) ১০ শতক জমি বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও টেনিয়া সম্মত হয়নি। বরং ওই জমিটি তিনি তার মেয়ে ও জামাতাকে দান দলিল করে দিয়ে সেখানে বহুতল বাড়ি নির্মানের জন্য পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদনের আবেদন করেন। আমজাদ হোসেন সরকার জীবিত থাকাকালে টেনিয়া সেই অনুমোদন নিতে পারেনি।
বিগত ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি আমজাদ হোসেন সরকার মারা যাওয়ার পরই ভারপ্রাপ্ত মেয়র জিয়াউল হক জিয়ার স্বাক্ষরে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে নকশাটি অনুমোদন করে নিয়ে রাতারাতিই তড়িঘড়ি করে নির্মান কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি তৎকালীন সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিনকে অবগত করলে তাঁর পরামর্শে পৌর ও উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়। এতে ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মানোয়ার হোসেন হায়দারকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই তদন্ত আজও হয়নি।
এদিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মানোয়ার হোসেন হায়দারই এখন আমাদের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। তিনি নিষেধ করা সত্বেও নকশা অনুমোদনের জোরে তড়তড় করে তিন তলা বিল্ডিং সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন। আমি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সকল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানালেও কারও জোরালো সহযোগীতা না পাওয়ায় তা ঠেকাতে পারিনি।
এখন প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা রেলওয়ের ২ শতক জমিও দখল করে নিয়েছে টেনিয়ার মেয়ে জামাতা। তারা ওই জমি রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়েছে বললেও এসংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারপরও গত বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) জোরপূর্বক ওই জমিতে আলাদা বাউন্ডারি ওয়াল নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এসময় ওই জায়গায় লাগানো আমাদের ২০/২৫ টি গাছও কেটে ফেলেছে।
এমতাবস্থায় বিষয়টি ইউএনও মহোদয় কে জানালে তিনি মোবাইলে ওই স্থাপনার মালিক টেনিয়ার জামাতা বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান (উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা) মো. আবুল কাশেমকে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নিষেধ করেছেন। তাই এখন কাজ বন্ধ আছে। কিন্তু তিনি এভাবে একটি প্রতিষ্ঠান ঘেষে বহুতল ভবন করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী তথা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। তাছাড়া কিছুদিন পর ওই ভবন ভাড়া দেয়া হলে তাতে বসবাসকারী পুরুষ হলে তাদের দ্বারা আমার মেয়েরা ইভটিজিংসহ নানা হয়রানীর শিকার হওয়ার সমুহ আশংকা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আমরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছি। বিশেষ করে সীমানা প্রাচীরের ভিতরের রেলওয়ের জায়গা দখল করায় তাদের প্রতিহিংসা পরায়ণ মানসিকতার প্রমাণ পেয়ে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার অবতারনার সমুহ আশংকা দেখছি। তাই অনতিবিলম্বে ওই বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ এবং দখলকৃত জমি উদ্ধারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এনিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রশাসন সুন্দরভাবে এই সমস্যার সমাধান না করলে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হবো। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ সবধরনের আন্দোলন করবো। তবুই এই যোগসাজশের অবৈধ কাজ বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবেনা। টাকার জোরে নকশা পাশ করলেই বিল্ডিং করা যায়না।
তারা আরও বলেন, অবশ্যই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে বহুতল ভবন করতে গেলে নিয়মনীতি মেনেই করতে হবে। তারা যেমন পাশে জায়গা ছাড়েনি তেমনি মূল সড়ক ও ড্রেনের সাথে প্রয়োজনীয় চলাচলের রাস্তাও রাখেনি। এখন আবার প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল করে ড্রেনের উপর কালভার্ট তৈরীর পায়তারা করছে। আমরা এই অন্যায় মানবোনা। তারা অভিযোগ করেন ওই স্থাপনার মালিক ভুমি মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা হওয়ায় সেই দাপটে আর টাকার জোরে এমন কাজ করছেন।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মনোয়ার হোসেন হায়দার বলেন, আমি সেসময় কাউন্সিলর হিসেবে নকশা অনুমোদনের আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলাম। সাবেক মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার মারা যাওয়ার সুযোগ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র জিয়াউল হক জিয়া নকশা অনুমোদন করেছেন। যা বিধিসম্মতভাবে হয়নি। আর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়েও এর বিরুদ্ধে জোরাল অবস্থান না নেয়ায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছে ওই ব্যক্তি।
এখন আমি সভাপতি হয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন সব দিক দিয়ে চেষ্টা করছি। নকশা অনুমোদনে কারসাজি বিষয়ে তদন্তপূর্বক তা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং রেলওয়ের জায়গাটুকু প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারকে অবগত করে অন্যান্য প্রশাসনিক কাজও এগিয়ে নিয়েছি। এজন্য কাজ বন্ধ হয়েছে। চেষ্টা করছি ওই ভবনটাও নেয়ার। সরকারী কর্মকর্তা হওয়ার অবৈধ দাপট কোন কাজে আসবেনা।
মো. আব্দুল ওয়াদুদ টেনিয়া বলেন, জামাই আর মেয়েকে ৫ শতক জমি অর্ধেক অর্ধেক করে দান করেছি। স্কুলের হর্তাকর্তাদের ঢিলেমির কারণেই তারা জমিটা নিতে পারেনি। এখন বাধা দিয়ে কোন লাভ হবেনা। পৌরসভা অনুমোদন দিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর আমাদের পক্ষে। তাছাড়া আমার জামাই আগে ভুমি মন্ত্রণালয়ে থাকলেও এখন সমুদ গবেষণা কেন্দ্রে আছেন। বড় অফিসার। প্রশাসন তার বাইরে যেতে পারবেনা।
এব্যাপারে স্থাপনা নির্মানকারী আবুল কাশেমের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে নিয়মমতই কাজ করছি। নকশা অনুমোদনে কোন ত্রুটি থাকলে পৌর কর্তৃপক্ষের বিষয়। আর রেলওয়ের জমিটা আমরা পাকশী থেকে ১১ বছর আগেই লিজ নিয়েছি। অতএব দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনেকবার জমিটা নিতে বলেছি, তারা নেয়নি। এখন নিয়ম মেনে নিজের জমিতে নিজে বাড়ি করছি। সেখানে এত প্যারা কেন? আমি ওই ভবনে ছাত্রী মেস করবো। তাই নিরাপত্তার ব্যাপারে দুশ্চিন্তার কোন কারন নাই। (ছবি আছে)


এ জাতীয় আরো খবর
Tech Support By Nagorikit.Com