Logo
ব্রেকিং :
দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত ভূঞাপুরে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শ্বাশুরিকে হত্যার অভিযোগ সরিষাবাড়ীতে শেখ হাসিনার জন্মদিনে নতুন কাপড় পেলো ২ শতাধিক দুঃস্থ ও এতিম শিশু ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন নাগরপুরে উপজেলা আ.লীগ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৬ তম জন্মদিন পালিত টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুলে অভিভাবক  সভা অনুষ্ঠিত  ঢাবিতে ছাত্রদলের উপর হামলার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা ঘিওরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত নেত্রকোনায় তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভা
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

বাঙালির মুক্তির ডাক

রিপোর্টার / ১৪ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০১৯

কালের কাগজ ডেস্ক:: ৭ মার্চ ২০১৯ ,বৃহস্পতিবার।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বিশাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে মুক্তির বাণী শোনান৷ এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মহান নেতা বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন, ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷” তিনি বলেন, ‘‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ!”

গবেষকরা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সার্বজনীনতা এবং মানবিকতা৷ যে-কোনো নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জন্য এই ভাষণ সব সময়ই আবেদন সৃষ্টিকারী৷ এই ভাষণে গণতন্ত্র, আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বাধিকার, মানবতা এবং সব মানুষের কথা বলা হয়েছে৷ ফলে এই ভাষণ দেশ-কালের গণ্ডি ছাড়িয়ে সার্বজনীন হয়েছে৷ অলিখিত বক্তৃতার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু একটি জাতির স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাসের জায়গা থেকে কথা বলেছেন৷ সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ভাষায় কথা বলেছেন৷ সবচেয়ে বড় কথা, বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া বুঝতে পেরেছেন৷ তাঁরা যা চেয়েছেন, বঙ্গবন্ধু তা-ই তাঁদের কাছে তুলে ধরেছেন৷ ফলে এই ভাষণটি একটি জাতির প্রত্যাশার আয়নায় পরিণত হয়৷ এই ভাষণই একটি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে৷ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও এই ভাষণ প্রেরণা জুগিয়েছে৷ আর এতবছর পরও মানুষ তাঁর ভাষণ তন্ময় হয়ে শোনেন৷

কবি নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে দেখেছেন অমর কবিতা হিসেবে৷ তিনি তার কবিতায় বলেন, ‘‘শুধু আমিই যে বঙ্গবন্ধুকে কবি বলেছি, তা কিন্তু নয়৷ পশ্চিমা বিশ্ব তাঁকে বলেছে ‘পোয়েট অফ পলিটিক্স’৷ তাঁর ভাষণ শুনে নিউজ উইক তাঁকে পোয়েট অব পলিটিক্স বলেছে, কারণ, তাঁর ভাষণে শব্দচয়ন মানুষকে সম্মোহিত করতো, ধরে রাখতো৷”

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের নানা দিক বিশ্লেষণ করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ৷ তাঁর বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে আর সেগুলো হলো: ১.বাঙালির সংগ্রাম ঐহিত্য এবং বঞ্চনার ইতিহাস, ২. গণতান্ত্রিক চেতনা, ৩. আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, ৪. শান্তির বাণী, ৫. মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ৬. আক্রান্ত হলে প্রতিরোধ৷

বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বলেছেন, ‘‘আমরা সংখ্যায় মেজরিটি, কিন্তু একজন মানুষও যদি ন্যায্য কথা বলে আমরা তা মেনে নেবো৷”- এরচেয়ে আর বড় কোনো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হতে পারে না৷ তিনি বলেছেন, এই বাংলায় হিন্দু বা মুসলমান, বাঙালি বা অবাঙালি সকলেই এ দেশের সন্তান, তাদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব হলো জনগণের৷ তিনি পার্টির নেতা-কর্মীদের বলেছেন- আমাদের যেন বদনাম না হয়৷

অধ্যাপক হারুন বলেন, ‘‘এটা তাঁর মানবিকতা এবং অসাম্প্রদায়িক চরিত্রের প্রকাশ৷” লেখক ও ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ড-এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস: দ্য স্পিচ দ্যাট ইনস্পায়ার্ড হিস্টোরি’ বইয়ে এই ভাষণ স্থান পেয়েছে৷ অসংখ্য ভাষায় অনুদিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ৷”


এ জাতীয় আরো খবর
ThemeCreated By ThemesDealer.Com