Logo
ব্রেকিং :
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন সভাপতি নোমানি, সম্পাদক সোহেল তাড়াশে বিএনপি’র ১২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলাঃ গ্রেফতার-৫ নগরকান্দায় নব নির্বাচিত সাংসদকে গন সংবর্ধনা নগরকান্দা আশ্রায়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী, তাই আ’লীগ জনগণের মনোভাবের মূল্যায়ন করছেনা – সৈয়দপুরে  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন  দৌলতপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে উপকারভোগীদের মাঝে টিউবওয়েল বিতরন দৌলতদিয়ায়  নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মাদক কারবারি গ্রেফতার  মানিকগঞ্জ জেলা যুব দল নেতা মাসুদ পারভেজ আটক দৌলতদিয়ায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

নাম পরিবর্তনের কথা বলে যে ভেলকিবাজি দেখালো জামায়াত!

রিপোর্টার / ১৩ বার
আপডেট বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৯

কালের কাগজ ডেস্ক:২৭ মার্চ-২০১৯

স্বাধীনতাবিরোধী দল খ্যাত জামায়াতে ইসলামী দলের নাম পরিবর্তনের কথা বললেও বাস্তবে তার দেখা মেলেনি এখনো। এ নিয়ে বিশেষ অগ্রগতিও লক্ষ্য করা যায়নি। ২৬ মার্চের মধ্যে তাদের অতীত কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ার কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত তারা নীরব।

জামায়াতের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বস্তুত জামায়াত তাদের দলের নাম পরিবর্তন করার পক্ষে কখনই ছিলো না। বরং বিশেষ দুইটি উদ্দেশ্য সফল করতেই দলটির নেতারা নাম পরিবর্তনের কথা বলছিলেন।

সূত্র বলছে, চলতি বছরের শুরু দিকে হঠাৎ করেই জামায়াতে ইসলামীর নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী অবস্থানের জন্য ক্ষমা চাইবে বলে গুঞ্জন ওঠে। এ নিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা গণমাধ্যমে অনেক মন্তব্যও করেছিলেন। নেতারা বলছিলেন, জামায়াতে ইসলামী নামটি পরিবর্তন করে দলকে নতুন রূপে সাজাবে তারা। এমনকি একাত্তরে তাদের উত্তরসূরিরা, যারা যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলো তারা সেসব অপকর্মের দায় নেবে। আর এই প্রক্রিয়ায় ২৬শে মার্চের মধ্যে তাদের অতীতের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে। কিন্তু হঠাৎ প্রসঙ্গটি ঝিমিয়ে পড়ে।

জানা গেছে, জামায়াতের এই আলোচনা ছিলো লোক দেখানো। দুটি বিশেষ উদ্দেশ্যে এমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারা। প্রথমত, জামায়াত যে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি সেই ধারণা থেকে জনগণের দৃষ্টি আড়াল করার জন্য কৌশল করা, দ্বিতীয়ত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে জামায়াতের ভরাডুবি হয়েছে সেখান থেকে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ২২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত অধিকাংশ নেতারা দণ্ডিত হয়েছেন, তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। এ অবস্থায় দলটি ছিল বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত। ফলে জামায়াতকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিএনপি সহায়তা করেছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে। কিন্তু ওই নির্বাচনে জামায়াতের ভয়াবহ ভরাডুবি হয়। প্রথমবারের মতো জামায়াতের সবগুলো প্রার্থীর জামানতই বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এই প্রেক্ষিতে জামায়াতের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরপরই জামায়াতের অপেক্ষাকৃত যারা তরুণ তারা দাবি করেন যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ এবং স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্যই সাধারণ মানুষ জামায়াতের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এমন প্রেক্ষিতে জামায়াতকে ঢেলে সাজানোর উদ্দেশ্যে এই পথ-পরিক্রমা।

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থেকে জামায়াতে সরে আসার বিষয়ে হয়তো বিএনপিও একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। মনে করা হচ্ছে, জামায়াত যদি না থাকে তাহলে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়বে। এজন্য বিএনপিও জামায়াতকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য একটি চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে জামায়াত তার আগের অবস্থানে রয়ে গেছে। স্বাধীনতাবিরোধী যে অবস্থানে ছিলো, সেই অবস্থানেই রয়ে গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, জামায়াত যেন তার অবস্থান পরিবর্তন না করে সেজন্য জামায়াতের উপর বিএনপির একটি অংশ যারা বিএনপিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষক এবং ধারক-বাহক হিসেবে পরিচিত, তারা জামায়াতের উপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করেছে যাতে জামায়াত তাদের অবস্থান থেকে সরে না দাঁড়ায়।

যে কমিটি জামায়াতকে সংস্কার এবং নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করার সুপারিশ করেছে। সেই কমিটি সুপারিশ করেছে যে, জামায়াতের বর্তমান বাস্তবতায় নাম পরিবর্তন করা অনুচিত হবে এবং তাতে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যাবে। একই সঙ্গে তারা এটাও সুপারিশ করেছে যে, জামায়াতের যে বিপুল সংখ্যক সমর্থক এবং কর্মী আছেন তাদেরকে পর্যায়ক্রমে সংগঠিত করতে হবে। অর্থাৎ জামায়াত প্রমাণ করলো, জামায়াত যে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল ছিলো সেই নীতি থেকে তারা এখনো সরে আসেনি। একাত্তরে তারা যে ভূমিকায় ছিলো তারা এখনো সেখানেই আছে। ফলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি, তা আবার নতুন করে ওঠা উচিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সচেতনরা।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com