Logo
ব্রেকিং :
নাগরপুরে খেজুর রস আহরণে ব্যস্ত গাছিরা টাঙ্গাইলে আশ্রয়ণের ঘরে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, দিশেহারা ৪০ পরিবার ধানের বাজারমূল্যে খুশি কৃষক, পরিবারে উৎসব জ্বলছে আগুন পুড়ছে কাঠ, ইটের ভাটায় সর্বনাশ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন নেত্রকোনায় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল নাগরপুরে আওয়ামীলীগ নেতা হিমু’র উদ্যোগে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব‍্যবস্থা গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত  উন্নয়নের জন্য নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নদী ভাঙ্গন রোধে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ হলে কাজ শুরু হবে– -দূর্জয়
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

টাঙ্গাইল পৌর ভবনের সামনে স্থাপিত জাতির জনকের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার এক বছরেও তা প্রতিস্থাপন হয়নি

রিপোর্টার / ১৪ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

মুক্তার হাসান,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:২৭ সেপ্টেম্বর-২০২২,মঙ্গলবার।

টাঙ্গাইল পৌর ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মানের পর তা রাতের অন্ধকারে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও পুনরায় তা নির্মানের উদ্যোগও নেয়া হয়নি। ভাস্কর্যটি কি কারনে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে তা এখনো সুস্পষ্ট নয় পৌরবাসীর কাছে। এমনকি পৌরসভার মেয়র বিষয়টি এখনো খোলাসা করেননি আনুষ্ঠানিকভাবে। ফলে এ নিয়ে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে ভাস্কর্য নির্মানের পর তা অপসারণের ঘটনাকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবজ্ঞা বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
জানা গেছে, বিগত ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারী টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাচনে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এসএম সিরাজুল হক আলমগীর। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পৌরভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য নির্মানের উদ্যোগ নেন। পৌরসভার সকল কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আলাপ আলোচনার পর চুড়ান্ত সিদ্ধান নেন মেয়র। পৌরসভা সুত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ জুলাই মঙ্গলবার টাঙ্গাইল পৌরসভার অর্থায়নে পৌরভবনের সামনে ১৫ ফুট উচ্চতার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন মেয়র এস,এম সিরাজুল হক আলমগীর। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান, পৌরসভার প্যানেল সকল প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর কর্মকর্তা-কর্মচারী, ও সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের দিন পৌর মেয়র সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পৌরসভার সামনে জাতির পিতার একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। টাঙ্গাইল পৌরসভার নিজস্ব প্রকৌশলী দিয়ে সঠিক নিয়মনীতি মেনে এর ডিজাইন করা হয়েছে। ভাস্কর্য নির্মানের ক্ষেত্রে তিনি সে সময় সকলের পরামর্শ ও সহযোগীতার কামনা করেন উদ্বোধনের দিন। ভাস্কর্য নির্মান কাজ শুরু করার দুই মাস পর প্রায় ছয় ফুট পর্যন্ত কাজ হয়। এরপর হঠাৎ এক রাতের আধাঁরে তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মানের পর দেখা যায় তা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত অবয়ব ফুটে উঠেনি। অসম্পুর্ন বিকৃত অবয়বের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মারাত্বক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকে বিকৃত অবয়বের ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। চাপের মুখে পৌর কতৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলে। এরপর ভাস্কর্যটি পুনরায় নির্মানের কোন উদ্যোগ এখনো নেয়নি পৌরসভা। এ ব্যাপারে অনেকের অভিযোগ, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মানের জন্যে মেয়র পেশাদার কোন ভাস্কর শিল্পী নিয়োগ না করে মৃর্তি বানানোর একজন সাধারন কারিগর নিয়োগ করেন। ফলে যা হবার তাই হয়। ভাস্কর্যটি নির্মানের শেষ পর্যায়ে এসে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত চেহারা ভাস্কর্যে ফুটে উঠেনি। বরং অনেকটা বিকৃতভাবে ফুটে উঠেছে এটি। এ ঘটনা জানাজানির পর পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর তড়িঘড়ি ভাস্কর্যটি ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ এক নেতা বলেন, পৌরসভার বিপুল অর্থ ব্যায় করে জাতির জনকের বিকৃত ভাস্কর্য নির্মান বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানোর পরিবর্তে তাকে অবমাননা করার সামিল। তাছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। তাকে নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত পৌরসভা এককভাবে নিতে পারেনা। ভাস্কর্য নির্মানের ব্যাপারে সকলের সাথে পরামর্শ করা উচিৎ ছিল। এ ব্যাপারে খেতাবপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জাতির জনক আমাদের অহংকার। তার নির্দেশে দেশকে শত্রæমুক্ত করতে অস্ত্রহাতে পাকিস্থানী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। তাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মানে কোন গাফিলতি মেনে নেয়া আমাদের জন্যে কষ্টকর বিষয়। বিকৃত অবয়বের ভাস্কর্য নির্মানের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা সোচ্চার হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাংস্কৃতিক ও নাট্যকর্মী সাম্য রহমান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতির জনকের ভাস্কর্য নির্মানের বিষয়টি নিয়ে যারা ভাস্কর্য শিল্পে অভিজ্ঞ তাদের সাথে পরামর্শ করা উচিৎ ছিল। আমি জানিনা মাননীয় মেয়র সাহেব তা করেছিলেন কিনা। তাছাড়া বিকৃত ভাস্কর্য নির্মানের পেছনে ব্যয় হওয়া পৌরবাসীর করের এই বিপুল পরিমান অর্থ অপচয়ের দায়ভার এখন কে নিবে। এ ব্যাপারে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ভাস্কর্য নির্মানের দায়িত্ব পাওয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারুটিয়া এলাকার দুলাল পালের সাথে। মুঠোফোনে তিনি প্রতিবেদককে জানান, আমি চারজন কারিগর নিয়ে দুইমাস কাজ করেছিলাম। মুজুরী বাবদ আমাকে দুইলাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ৩২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ভাস্কর্য নির্মানে তার কোন অভিজ্ঞতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে দুলাল পাল বলেন, আমি সিমেন্টের মুর্তি তৈরি করি। আমি কখনো বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান করিনি। জাতির জনকের ভাস্কর্য নির্মান ও পরে তা অপসারণের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে পৌরবাসীর মাঝে। এভাবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান ও ভেঙ্গে ফেলার বিষয়টি অনেকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেননা। বিষয়টি কেন এতদিনেও মেয়র মহোদয় পৌরবাসীকে খোলাসা করে জানাননি তা নিয়েও অভিযোগ অনেকের। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মান ও অপসারণের ব্যাপারে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল পৌরসবার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর টাঙ্গাইল প্রতিদিনকে বলেন, আসলে ভাল কারিগর পাওয়া মুসকিল। যারা আমাদের বঙ্গবন্ধুর ভাল ভাস্কর্য বানানোর প্রতিশ্রতি দিয়েছিল তা হয়নি। কিছুটা ত্রæটি বিচ্যুতি থাকায় আমরা তা অপসারণ করেছি। আগামীতে নিরালা মোড়ে যদি আমরা স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মান করতে পারি সেখানে জাতির জনকের নান্দনিক পরিবেশে বঙ্গব্ন্ধুর ঐতিহাসিক একটি ভাস্কর্য স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। এছাড়া আপাদত কোন সিদ্ধান নেয়া হয়নি। তিনি বলেন ভাস্কর্য নির্মানে পৌরসভার একটি পয়সাও খরচ হয়নি। যেহেতু আমি সাকসেস হইনি সেহেতু ভাস্কর্য নির্মানে খরচ সম্পুর্নই আমার পকেটের টাকা। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও টাঙ্গাইলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোন ভাস্কর্য স্থাপনের কোন উদ্যোগ নেয়নি কেউ। আগামীতে শহরের কোন সুন্দর পরিবেশে বা সুন্দর জায়গায় জাতির জনকের একটি চমৎকার ভাস্কর্য নির্মান করার দাবি রয়েছে নতুন প্রজন্মের।
৪.


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com