Logo
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

খামোশ বললেই মুখ খামোশ হবে না—-প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার / ৩৪ বার
আপডেট শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

কালের কাগজ ডেস্ক: ১৪ ডিসেম্বর,শুক্রবার ।

জামায়াত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, ‘খামোশ বললেই মানুষের মুখ খামোশ হবে না। লজ্জা কম বলেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তারা খামোশ বলতে পারেন।’
শুক্রবার বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এ সমালোচনা করেন।
আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীর আত্মীয়-স্বজনসহ বাংলা ভাই ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট।’
শেখ হাসিনা এসব প্রার্থীদের ভোট না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
অন্যান্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সন্তানদের মধ্যে ডা. নুজহাত চৌধুরী ও শমী কায়সার বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যান ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।
সেখানে জামায়াতে ইসলামী নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের ওপর রেগে যান ড. কামাল হোসেন। মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কত পয়সা পেয়েছো এসব প্রশ্ন করতে?’
প্রবীণ এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘চুপ কর। চুপ কর, খামোশ।’ শুধু তাই নয়, এ সময় তিনি ওই সাংবাদিকের নাম জানতে চেয়ে বলেন, ‘তোমার নাম কী? কোন পত্রিকা?’
জবাবে ওই সাংবাদিক ‘যমুনা’ বললে তিনি জবাব দেন, ‘যমুনা টেলিভিশন, চিনে রাখলাম।’
সকালের এ ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরই মধ্যে বিকেলে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ড. কামালের নাম না উল্লেখ করে এমন সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত, আজকে আমরা দেখি তাদের পরিবারের সদস্যদের বিএনপিসহ যে ঐক্য করা হয়েছে, তাতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, যারা এত বড় অপরাধ করল, আর যে পাকিস্তানী বাহিনীকে আমরা পরাজিত করলাম তাদের এই দোসরদের যখন ধানের শীষে মনোনয়ন দেয়া হলো আর এই ধানের শীষ নিয়ে যারা আমাদের সঙ্গে ছিল তারা একই সঙ্গে কিভাবে নির্বাচন করবে? এ প্রশ্নের উত্তর তারা জাতির কাছে দিতে পারবে কি না? তবে হ্যাঁ, তাদের লজ্জা একটু কম লাগে বলেই সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে খামোশ বলতে পারেন।’
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক নেতা এবার ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীর স্বজনসহ বাংলা ভাই ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট। আজকে ড. কামাল, সুলতান মনসুর, কাদের সিদ্দিকী, মান্না… এতো আবেগ দিয়ে জ্ঞানগর্ভ লেখা… এতো বিবেক! কোথায় গেল সেই বিবেক? ওই ধানের শীষে তার আজকে নির্বাচন করছে। রাজনীতিকে কোথায় নামিয়েছে? তারা যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশের ভাগ্যে কী ঘটবে সেটাই আমার প্রশ্ন।’
বক্তব্যের শুরুর দিকে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু করেছিল। আইয়ুব খানের আমল থেকেই দেখা মিলিটারি ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য একটি দল গঠন করে এবং প্রহসনের নির্বাচন করে। বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানও তাই করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, তাতে যুদ্ধাপরাধীদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার ছিল না।’
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শেখ হাসিনা সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশে নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজ-খবর নেন। মিরপুর থেকে ধানমন্ডিতে যান প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সদস্যরা তাদের স্থানীয় দোসরদের সহায়তায় শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পী, প্রকৌশলী ও লেখকসহ দুই শতাধিক বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে যায়।
পাকিস্তানী সৈন্যরা বুদ্ধিজীবীদের ধরে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ বিভিন্নস্থানে হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে নির্যাতন করে তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। এসবের মধ্যে রায়েরবাজার ও মিরপুর ছিল উল্লেখযোগ্য। এরপর থেকেই দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com