Logo
ব্রেকিং :
এলাকাবাসীর প্রতিরোধে ড্রেন নির্মানের নিম্নমানের ইট সরাতে বাধ্য হলো ইউপি চেয়ারম্যান  রাণীশংকৈলের  দুই খালাতো ভাই ও ইউপি সদস্যসহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-৩ নাগরপুরে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নড়াইলে শ্রমিক সংকটে কৃষকদের পাশে ৩১৫জন শিক্ষার্থী, তিনদিন ধরে ধানকাটা উৎসব কালিয়ায় নিখোজ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পট থেকে অবৈধ বন্যপ্রাণী উদ্ধার ২৫ হাজার টাকা জরিমানা নড়াইলে ভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু আহত -৬ মির্জা ফখরুলরা স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ পাকিস্তান বানাবে এখন স্বপ্ন দেখছে শ্রীলংকা বানাবে –দুর্জয় হরিপুরে বসত ভিটার জমির জেরে ছেলের হাতে মা খুন গ্রেপ্তার ৩   ঈশ্বরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে পুলিশ—নোমান

রিপোর্টার / ২ বার
আপডেট সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

কালের কাগজ ডেস্ক:১৭ ডিসেম্বর,সোমবার ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘নির্বাচন কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের এক-দেড় মাসের জন্য বাইরে কোথাও চলে যেতে বলছে পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তারাই এমন কথা বলছেন। নাম বলব না। যদি আমার কাছে ওয়ান টু ওয়ান জানতে চান অথবা নিয়ম মাফিক কোনো লিস্ট দিতে বলেন, দিতে পারব।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি সরাসরি রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের কাছে এসব অভিযোগ করেন। সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কেন্দ্রে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় পোস্টার বিএনপির প্রার্থীরা পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় তুলে ধরেন।

সভায় বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ছাড়াও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপি প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান।

তারা বলেন, পোস্টার লাগাতে না দেয়া, নেতা-কর্মীদের হত্যার হুমকি প্রদান, মিছিল সমাবেশ ও গণসংযোগে হামলা করাসহ এমন কোন অপকর্ম নেই পুলিশ প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের কর্মিরা করছে না। এ মতবিনিময় সভায় মহানগর ও সংলগ্ন এলাকার ৬টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন দলের ৪৯ জন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী নওফেল ‘রাজনৈতিক’ বক্তব্য দিলে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নোমান ও খসরু।

এদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইলিয়াছ হোসেন জেলার ১০ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সভায়ও বিএনপি প্রার্থীরা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন।

দু’টি সভাতেই বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বিএনপি প্রার্থীসহ বিভিন্ন প্রার্থীর অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল্লা আল নোমান বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এই মুক্তিযুদ্ধ করার কারণে আমার ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। শত শত মাইল হেঁটে বাংলাদেশে এসেছি। বাংলাদেশ থেকে আবার গিয়েছি। যুদ্ধ করেছি। সেই মানুষ আমি। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে, রোববার আমাদের যে প্রোগ্রামটা ছিল ‘বিজয় দিবসের র‌্যালির উদ্বোধন’ নয়াবাজার এলাকায়। উদ্বোধন করতে গিয়ে যখন বক্তব্য শুরু করলাম তখন দেখি হঠাৎ লাঠিসোটা, বন্দুক এবং রিভলবারসহ বিশাল এক বাহিনী এগিয়ে আসছে। তাদের থেকে রক্ষা করার জন্য নেতা-কর্মিরা আমাকে নিয়ে একটা ঘরে অবস্থান নিল। তারা (আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মিরা) আমাকে গুলি করতে উদ্যত হয়। নেতা-কর্মিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমি জেলা পুলিশকে অনুরোধ করেছি হামলাকারীদের আটকাতে। তারা বললেন, এটা তাদের বিষয় নয়। এটা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বিষয়। আমি খুব আশ্চর্য হয়ে গেলাম। এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটবে তা কখনো আশা করিনি।

আমাদের অনুষ্ঠানটি করতে প্রশাসন থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এর আগের দিন পুলিশ প্রশাসন আমাদের কর্মীদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়েছে। তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। বলছে এক- দেড় মাসের জন্য এলাকা ছেড়ে চলে যেতে।’

নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে নোমন বলেন, ‘আমার আসনের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে এমন এজেন্ট ও কর্মীদের গায়েবি মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই যদি অবস্থা হয়, তবে দেশের অবনতি হবে। একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারা ব্যাহত হবে। এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’

গায়েবি মামলা’ বাংলা অভিধানে নতুন অর্ন্তভুক্ত হওয়া একটি শব্দ মন্তব্য করে চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি আগামীকাল যেখানে গণসংযোগে যাব, আজ রাতে সেখান এলাকায় তাণ্ডব চালাবে পুলিশ। প্রচার-প্রচরণায় আসা নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মোবাইলে ভিডিও করে রাখছে। রাতে আবার তাদেরকে গ্রেফতার করে গায়েবি মামলায় ঢুকানো হচ্ছে।

নোমান বলেন, সরকারি দল ও পুলিশ প্রশাসন সাধারণ জনগনের মাঝে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভীতি সৃষ্টি করছে। এসব কী দেশের মানুষ দেখছেন না?’

এর জবাবে চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দিন বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডব ও ‘আগুন সন্ত্রাস’ কর্মকাণ্ডে ভোটারদের মনে ‘ভয়ের আবহ’ সৃষ্টি হয়েছিল। ভোটাদের মাঝে বর্তমানে ভয়ভীতি নেই বরং উৎসবমুখর পরিবেশ দেখছি।’ এ সময়‘চট্টগ্রাম-৯ আসনে ইভিএম নিয়ে নারী ভোটারদের মধ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ নওফেলের এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক দাবি করে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নোমান ও খসরু।

সভায় বিএনপির প্রার্থী ইসহাক চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪) ও আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৮) এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম নির্বাচনী প্রচারে বাধা, নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

সভায় অতিরিক্তি বিভাগীয় কমিশনার শঙ্কর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভিন তিবরিজী, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল ফয়েজ এবং নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
ThemeCreated By ThemesDealer.Com