Logo
ব্রেকিং :
দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত ভূঞাপুরে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শ্বাশুরিকে হত্যার অভিযোগ সরিষাবাড়ীতে শেখ হাসিনার জন্মদিনে নতুন কাপড় পেলো ২ শতাধিক দুঃস্থ ও এতিম শিশু ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন নাগরপুরে উপজেলা আ.লীগ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৬ তম জন্মদিন পালিত টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুলে অভিভাবক  সভা অনুষ্ঠিত  ঢাবিতে ছাত্রদলের উপর হামলার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা ঘিওরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত নেত্রকোনায় তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভা
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

খাদ্য চাহিদা পূরণে ‘সী-উইড’

রিপোর্টার / ১৫ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৯

কালের কাগজ ডেস্ক :১৭ জানুয়ারী

বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক খাদ্যের ব্যবহার বাড়ছে দিনদিন। পুষ্টিমান ভালো ও অর্থকরী হওয়ায় এর দিকে ঝুঁকছে অনেকেই। বাংলাদেশেও এটি হতে পারে অন্যতম একটি লাভজনক খাত। বাংলাদেশের বিকল্প খাদ্যের ভালো যোগান আসতে পারে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন প্রজাতির ‘সী-উইড’ থেকে। সামুদ্রিক এ খাদ্য পুষ্টির চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ, প্রসাধন সামগ্রীসহ নানা শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে করে এসব খাতের কাঁচামালের আমদানি খরচ হ্রাস পাওয়ার পাশাপশি ‘সী-উইড’ বিদেশে রপ্তানি করে দেশে আসবে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এতে করে আরো সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতি। এমনটিই জানাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

মেরিন ম্যাক্রোঅ্যালজি যা সী-উইড নামে বহুল পরিচিত। এটি সাগরের এক প্রকার তলদেশীয় জলজ উদ্ভিদ। সী-উইড বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ জলজ সম্পদ, পুষ্টিগুণের বিচারে যা বিভিন্ন দেশে খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচ্যে বিশেষত জাপান, চীন ও কোরিয়ায় সনাতনভাবেই দৈনন্দিন খাদ্যে সী-উইড ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে এবং দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপে এর ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মূলত ৩ ধরনের সী-উইডের ভেতর বাদামি অ্যালজি (৬৬%), লাল অ্যালজি (৩৩%) ও সবুজ অ্যালজি (১%) খাদ্য হিসেবে সমাদৃত। মানব খাদ্য হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও ডেইরি, ওষুধ, টেক্সটাইল ও কাগজ শিল্পে সী-উইড আগার কিংবা জেল জাতীয় দ্রব্য তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া জমিতে সার, প্রাণী খাদ্য ও লবণ উৎপাদনেও সী -উইড ব্যবহার করা হয়। সী -উইডে প্রচুর পরিমাণে খনিজ দ্রব্য বিদ্যমান থাকায় খাদ্যে অনুপুষ্টি হিসেবে এর ব্যবহার গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিজ্ঞানী আবু সায়েদ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘সী -উইড বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি ওষুধ ও প্রসাধনশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এসব কাঁচামাল বাংলাদেশ এখন বিদেশ থেকে আমদানি করে। যদি আমরা বঙ্গোপসাগরে থাকা সী-উইডগুলো যথাযথ ব্যবহার করতে পারি, তাহলে আমাদের আর বিদেশমুখী হতে হবে না।’ তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান শুধু সী -উইড রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র এলাকা কাজে লাগিয়ে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। বিকল্প খাদ্য হিসেবেও সী -উইড কাজে লাগানো যেতে পারে, যা পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে সী -উইড প্রজাতি ও রকম চিহ্নিত করতে ১৯৭৬ সালে অধ্যাপক নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল গবেষক সাগরে অনুসন্ধান শুরু করেন। প্রায় দুই বছর অনুসন্ধান চালিয়ে তারা ১৮১টি প্রজাতির সী -উইড চিহ্নিত করেন। এরপর থমকে যায় বাংলাদেশের সী-উইড অধ্যায়যাত্রা। তখনকার সময়ে চিহ্নিত হওয়া প্রজাতিগুলো এখনো রয়েছে কি না তাও নিশ্চিত নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর নতুন করে শুরু হয় বাংলাদেশের সী-উইড অনুসন্ধান। বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক মোহাম্মদ শিমুল ভূঁইয়া বলেন, ‘সাগরে সব জায়গায় সব সী -উইড পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট কিছু পরিবেশে, নির্দিষ্ট জায়গায় সী -উইড পাওয়া যায়। আমাদের সৌভাগ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জলসীমানায় ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির প্রচুর পরিমাণ সী -উইড রয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর
ThemeCreated By ThemesDealer.Com