Logo
ব্রেকিং :
নাগরপুরে খেজুর রস আহরণে ব্যস্ত গাছিরা টাঙ্গাইলে আশ্রয়ণের ঘরে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, দিশেহারা ৪০ পরিবার ধানের বাজারমূল্যে খুশি কৃষক, পরিবারে উৎসব জ্বলছে আগুন পুড়ছে কাঠ, ইটের ভাটায় সর্বনাশ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন নেত্রকোনায় ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল নাগরপুরে আওয়ামীলীগ নেতা হিমু’র উদ্যোগে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার ব‍্যবস্থা গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত  উন্নয়নের জন্য নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নদী ভাঙ্গন রোধে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ হলে কাজ শুরু হবে– -দূর্জয়
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

নাগরপুরের জাহালমের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি । লেখা পড়া জানে না ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাত করে কেমনে?

রিপোর্টার / ১৪ বার
আপডেট বুধবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৯

কালের কাগজ ডেস্ক: ৩০ জানুয়ারী,বুধবার ।
আমার ছেলে লেখা-পড়া জানে না। তার ব্যাংকে কোন অ্যাকাউন্ট নাই। সে আবার ব্যাংক থেকে ঋণ উঠাইবো ক্যামনে?-এভাবেই বললেন ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় বিনাদোষে কারাবন্দী জাহালমের মা মনোয়ারা।

সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবরিয়া ইউনিয়নের ধুবরিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের জাহালমের বাড়িতে গেলে ৬৫ বছর বয়সী মনোয়ারা বলেন, ১০-১৫ বছর ধইরা আমার ছেলে জাহালম জুট মিলে কাম করে। শুনছি, সে মেশিন অপারেটর। সাত দিনে একবার টাকা পায়। তাই দিয়া কোন রকমে তার সংসার চলে। আমারে কোন টাকা-পয়সা দিতে পারে না। আমি এ বাড়ি ও বাড়ি কাম কইরা খাই। আমার নির্দোষ ছেলেরে এইভাবে যাারা জেলে রাখছে, আমি তাদের বিচার চাই।

কথা বলতে বলতে সে তার জীবণের নানা কষ্টের কথা তুলে ধরে এই প্রতিবেদকের কাছে। ধুবরিয়া গ্রামের জনৈক আব্দুল বারীর বাড়িতে আশ্রিত ছিলেন তিনি। বিয়ের পর নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার। বিয়ের কয়েক বছর পর তার স্বামী ইউসুফ অন্যত্র বিয়ে করে তাকে ছেড়ে চলে যায়। এর পর সে মাঝে মাঝে এসেছে। এখন একবারেই আসে না। বয়স হয়েছে, সেও অসুস্থ। চোখের কোণে পানি, ছল ছল করছে।

তিনি বলেন, তিন ছেলে তিন মেয়ের মধ্যে তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে শাহানুরের সংসারে দুই ছেলে এক মেয়ে। নাতি দুইটা স্কুলে পড়ে, আর নাতনি এক বছরে কোলে। বিদ্যুতের কাম জানে। সমিতি থেকে ঋণ নিয়া এলাকায় একটা ইলেকট্রিকের দোকান দিছে। সাপ্তায় ৩ জাগায় টাকা দিতে অয়। জাহালম মেঝ। চাচাতো বোন ময়নাকে বিয়ে করেছে। তার ঘরে ৭ বছরের একটা মেয়ে আছে। ঘোড়াশালের জুট মিলে কাম করতো। পরিবার নিয়া সেখানে ভাড়া বাসায় থাকতো। ছেলেটা আমার ৩ বছর ধইরা জেলে আছে। বউটা শুনছি প্রাণ কোম্পানীতে চাকরী করে। নাতনিটা তার নানীর কাছে থাকে। ছোট ছেলে রাজিব হোসেন সাদ্দাম ফরিদপুরে জুট মিলে কাম করে। সারা জীবন কষ্টের পর একটু সুখের মুখ দেখমু বইলা আশায় বুক বানছিলাম। ধার-হাওলাত কইরা ১০ শতাংশ জাগা কিনা একটি দোচালা, একটা টিনের ছাপড়া ঘর বানাইছি। হঠাৎ কইরা জাহালমের বিরুদ্ধে ক্যারা যে ষড়যন্ত্র করলো-বলতেই কান্না।

বিনা অপরাধে ছেলেটা আমার জেলা খাটতাছে। কোর্টে ঘুরতে ঘুরতে আমার আরেক ছেলে (শাহনুর) শেষ হইয়া গেল। মামলা চালাইতে যাইয়া ১০-১৫ লাখ টাকা ঋণ হইয়া গেছি। পাওনাদারদের চাপে পইড়া ছেলেটা আমার নিজের দোকান বন্ধ কইরা এলাকা ছাইড়া পালাইছে। শুনছি ঢাকার উত্তরায় একটা কার্টুনের কারখানায় কাম নিছে। এমনিতেই সমিতির টাকা। তার উপরে মামলা। কিছুক্ষণ চুপ করে গালে হাত দিয়ে বসে রইলেন।

তারপর তিনি এই প্রতিবেদককে বললেন, বাবা তুমি আমার নির্দোষ ছেলেডারে আইনা দিতে পারবা না? দেখো না একটু চেষ্টা কইরা। আমার ছেলেগুলো কাম কইরা খায়। আমি জানি, আমার ছেলেরা কোন খারাপা কাম করতে পারে না।

সোমবার দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার কারণে, বাড়িতে স্থানীয় ধুবরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান খান শাকিল, ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো: নমাজ আলীসহ অনেককেই পাওয়া গেল। তারাও বললেন, অত্যন্ত নিরীহ পরিবার। পরিবারের সবাই কাজ-কর্ম করে খায়। কোন ধরণের অনৈতিক কাজের সাথে তারা জড়িত থাকতে পারে-এটা তারা বিশ্বাস করেন না। তারা বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাতের সাথে ওই অফিসের লোক জড়িত। আর একারণেই অফিসের লোকদের বাঁচাতেই তারা নিরীহ লোকদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

জাহালমের বড় ভাই শাহনুর এই প্রতিবেদককে জানায়, তার ভাই জাহালম ২০০৩ সালে নরসিংদীর ঘোড়াশাল পাটকলে কাজ নেয়। সে মেশিন অপারেটর। ২০১২ সালে তার চাকুরী পারমানেন্ট হযেছে। সপ্তাহে সে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পাইতো। বিনাদোষে জেলে যাওয়ার পর, মামলা চালাতে যেয়ে তার গোটা পরিবার নি:স্ব হয়ে পড়েছে। পাওনাদারদের চাপের মুখে তিনি এলাকা ছাড়া। তিনি তার নির্দোষ ভাইয়ের মুক্তি চান ্ওবং টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিচার চান। একইসাথে বিনাদোষে মামলায় জড়িয়ে তাদের যে টাকা খরচ হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি সরকারের কাছে সেই টাকার দাবী করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু সালেকের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন এই জাহালম।
জাহালমের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। দুদক এখন বলছে, জাহালম নিরপরাধ প্রমাণিত হয়েছেন। তদন্ত করে একই মত দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। তাই একটি মামলায় তাঁর জামিন হয়েছে। আরও ৩২টি মামলায় জামিন পাওয়ার অপোয় আছেন তিনি।

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি

#


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com