Logo
ব্রেকিং :
দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত ভূঞাপুরে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শ্বাশুরিকে হত্যার অভিযোগ সরিষাবাড়ীতে শেখ হাসিনার জন্মদিনে নতুন কাপড় পেলো ২ শতাধিক দুঃস্থ ও এতিম শিশু ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন নাগরপুরে উপজেলা আ.লীগ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৬ তম জন্মদিন পালিত টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুলে অভিভাবক  সভা অনুষ্ঠিত  ঢাবিতে ছাত্রদলের উপর হামলার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা ঘিওরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত নেত্রকোনায় তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভা
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

জঙ্গি দমনে পুলিশ বিশ্বে রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার / ৮ বার
আপডেট সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

কালের কাগজ ডেস্ক:০৪ ফেব্রুয়ারি,রবিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রতীক বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন, জঙ্গি নির্মূল ও মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশ এখন বিশ্ব দরবারে রোল মডেল।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯’ উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তার সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যমান চাহিদার নিরিখে এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাত ছিল ১:১৩৫৫। কিন্তু, তার সরকারের আমলে এই অনুপাত ১:৮০১- এ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এই বাহিনীর প্রয়োজনীয় আধুনিক যানবাহন-সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র সরবরাহ, ভূমি সংস্থান, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উপর গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করি। আমাদের সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে পুলিশ বাহিনীতে আজ দৃশ্যমান পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমান মেয়াদেও বাংলাদেশ পুলিশের উন্নয়নে আমাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাভেদ পাটোয়ারী এবং সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সংসদ, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ৩৪৯ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদকে (পিপিএম) ভূষিত করেন।

এর মধ্যে ১০৪ জন বিপিএম (সেবা) ও ৪০ জন বিপিএম (সাহসিকতা) এবং ১৪৩ জন পিপিএম (সেবা) ও ৬২ জন পিপিএম (সাহসিকতা) পদক অর্জন করেন।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে আরও বেশি করে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালনে আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এই পদকপ্রাপ্তি তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও বেশি উদ্দীপনা ও প্রেরণা যোগাবে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন।

তিনি বলেন, জনগণের সমস্যাকে দেখতে হবে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে, সেজন্য জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশকে আমরা সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় ‘জনবান্ধব পুলিশ’ হিসেবে দেখতে চাই। এজন্য পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, বিগত ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে গণতন্ত্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রয়াস চালায়। সেই অশুভ শক্তি সারাদেশে হরতাল, অবরোধ, সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, আগুন সন্ত্রাস, নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সেদিন পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখে দিয়েছিল।

সরকারপ্রধান বলেন, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে এবং শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা হয়। পুলিশ বাহিনী সুদৃঢ় মনোবল, অসীম সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি তার উপর কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদ শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নেই।’

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্য নিহত হলে তার পরিবার ৮ লাখ টাকা পাবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পৌঁছলে এক দল পুলিশ সদস্য তাকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও ঘোড়ায় চড়ে অভিবাদন জানিয়ে মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে প্যারেড কমান্ডার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার নেতৃত্বে অভিবাদন জানায় বাংলাদেশ পুলিশের সুসজ্জিত প্যারেড কন্টিনজেন্টস।

 

কালের কাগজ/প্রতিবেদক/জা.উ.ভি


এ জাতীয় আরো খবর
ThemeCreated By ThemesDealer.Com