Logo
ব্রেকিং :
পাথরে বিটুমিন মিক্সার ফ্যাক্টরির বয়লারে আগুন, রক্ষা পেল মার্কেট, শত শত মানুষ  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন সভাপতি নোমানি, সম্পাদক সোহেল তাড়াশে বিএনপি’র ১২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলাঃ গ্রেফতার-৫ নগরকান্দায় নব নির্বাচিত সাংসদকে গন সংবর্ধনা নগরকান্দা আশ্রায়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী, তাই আ’লীগ জনগণের মনোভাবের মূল্যায়ন করছেনা – সৈয়দপুরে  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন  দৌলতপুরে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে উপকারভোগীদের মাঝে টিউবওয়েল বিতরন দৌলতদিয়ায়  নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মাদক কারবারি গ্রেফতার  মানিকগঞ্জ জেলা যুব দল নেতা মাসুদ পারভেজ আটক
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

চিকিৎসক সংকটে নাগরপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্র সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ।

রিপোর্টার / ১৭ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

,আবুবকর সিদ্দিকী,নাগরপুর (টাঙ্গাইল) থেকে :১২ ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র। স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকারের একটি হলেও বিস্তর সমস্যা রয়েছে এখানে।সমস্যা জর্জরিত এ হাসপাতালে রয়েছে চিকিৎসক,যন্ত্রপাতি ও এম্বুলেন্স সংকট। চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নাগরপুরের বিশাল জনোগোষ্ঠি। রোগিরা হাসপাতালে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থেকে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। কাগজে কলমে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও আগের ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই কার্যক্রম চলছে। ফলে তারা সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসা না পেয়ে লোকজন ছুটছে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। এতে করে পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে বিপুল পরিমান টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে তারা ভুয়া ডাক্তার ও প্যাথলোজিষ্ট দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদ রয়েছে ২২টি। এর মধ্যে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালটেন্ট(মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেসথেসিয়া, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা, ৩টি মেডিকেল কর্মকর্তা, ডেন্টাল সার্জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট(চর্ম) জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) জুনিয়র কনসালটেন্ট (এএনটি) জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু),মেডিকেল কর্মকর্তা (হোমিও) সহকারি সার্জন (প্যাথলজিষ্ট), মেডিকেল কর্মকর্তা (আইএমও), মেডিকেল কর্মকর্তা (ইএমও), সহকারি সার্জন (গাইনী), সহকারি সার্জনএ্যনেসথেসিষ্টসহ ২২টি পদ রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশরাফ আলী, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা রোকুনুজ্জামান, দুইজন মেডিকেল কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ও শরিফুল ইসলাম, ডেন্টাল সার্জন মোখলেসুর রহমান এবং মেডিকেল কর্মকর্তা (হোমিও) শরিফ উদ্দিনসহ ছয়জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। ফলে ছয়জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালের ১৬টি পদ শুন্য রয়েছে।
কাঠুরি গ্রামের আলেয়া খাতুন জানান, গর্ভবতী কোন নারীকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা করানের কোন সুযোগ নেই। এ ধরণের কোন রোগী হাসপাতালে আসলে ক্লিনিক অথবা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামীণ নারীরা সাধারণত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। হাসপাতালে কোন গাইনী ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসার সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেসথেসিয়ার পদ দীর্ঘকাল ধরে শুন্য রয়েছে। মেডিকেল কর্মকর্তাও নেই চার পাঁচ বছর ধরে। সাধারণ জনগণ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা না পেয়ে পাশেই গড়ে উঠা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে। এসব ক্লিনিকগুলোতে অদক্ষ প্যাথলোজিষ্ট দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করায় প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা। একদিকে রোগীরা ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন অন্যদিকে এসব ক্লিনিকগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমান অর্থ।
হাসপাতালের পুরাতন একটি এক্সরে মেশিন থাকলেও প্রায় সময়ই নষ্ট হয়ে থাকে। এ্যম্বুলেন্সটিও মেরামত না করায় ব্যবহারের অনউপযোগী হয়ে রয়েছে। প্রসূতিদের চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই। এই হাসপাতালে কবে অপারেশন হয়েছে কেউ বলতে পারে না। ৩১ থেকে ৫০ বেডে উন্নীত হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ৫০ বেডের ভবন নির্র্মাণ হলেও আসবাবপত্র ও লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। মোট কথা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত নাগরপুরের প্রায় চার লক্ষ মানুষ।

সাবেক উপপরিচালক ডাক্তার গোপাল চন্দ্র সেন বলেন, নাগরপুরের জনগণ হাসপাতালমুখি। চিকিৎসক না থাকায় উপজেলার বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠি চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সেবার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নাগরপুর মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুলতান উদ্দিন বলেন, সরকার চিকিৎসকদের গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দিলেও নাগরপুরে কোন চিকিৎসক তা মানছেন না। তারা ইচ্ছেমত হাসপাতালে আসেন এবং যান। এছাড়াও রয়েছে চিকিৎসক সংকট। শুন্যপদগুলো পুরণ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠির চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশরাফ আলী বলেন, মাত্র ৬/৭ জন চিকিৎসক দিয়ে বিশাল এ জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। চিকিৎসকের যেমন সংকট রয়েছে তেমনি রয়েছে যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র দিয়ে তা পাওয়া যাচ্ছেনা ।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন শরীফ হোসেন বলেন, চিকিৎসক সংকট শুধু নাগরপুরে নয় এটা সারা দেশের চিত্র। মন্ত্রনালয়ে চিকিৎসক চেয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা। এছাড়া উপজেলা হাসপাতালে পদায়ন হয়েই প্রেষণে লাভজনক স্থানে চলে যায়। এক্ষত্রে চিকিৎসকদের মানবিক হওয়ার আহবান জানান তিনি। তা না হলে গ্রামের বিশাল দ্ররিদ্র জনগোষ্ঠি চিকিৎসা সেবা থেকে সারাজীবন বঞ্চিত হবে।

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com