Logo
ব্রেকিং :
দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত ভূঞাপুরে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শ্বাশুরিকে হত্যার অভিযোগ সরিষাবাড়ীতে শেখ হাসিনার জন্মদিনে নতুন কাপড় পেলো ২ শতাধিক দুঃস্থ ও এতিম শিশু ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন নাগরপুরে উপজেলা আ.লীগ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৬ তম জন্মদিন পালিত টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুলে অভিভাবক  সভা অনুষ্ঠিত  ঢাবিতে ছাত্রদলের উপর হামলার প্রতিবাদে সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা ঘিওরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত নেত্রকোনায় তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভা
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন: আতঙ্ক দুর্ভোগ* স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

রিপোর্টার / ৯ বার
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

 

কালের কাগজ ডেস্ক : ১৫ ফেব্রুয়ারি,শক্রবার।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের খবরে রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের ভেতর ছোটাছুটি শুরু করেন।

এতে সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্বজনরা রোগীদের হাসপাতাল থেকে বের করে আনেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সব রোগী বাইরে নিয়ে আসে। তাদের রাখা হয় হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও সামনের মাঠে।

আইসিইউতে থাকা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।
তাদের প্রচেষ্টায় প্রায় ৩ ঘণ্টা পর রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং রোগীদের স্বজনরা ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের সঙ্গে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এদিকে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগার সময় প্রায় ১২শ’ রোগী ছিলেন। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে রোগীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সহস্রাধিক রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী থেকে আনা রোগীদের অসুস্থতার ধরন অনুযায়ী সরাসরি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে হাসপাতালের জনবলও বাড়ানো হয়েছে। আনসার সদস্যদেরও কাজে লাগানো হয়েছে ও যথাসাধ্য সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সগুলো সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতাদের সংগঠনের সভাপতি লিটন বলেন, তারা রাত ৮টা পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে কয়েকশ’ রোগী সরিয়ে নিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আল আমিন নামে রোগীর এক স্বজন রাত সাড়ে ৮টার দিকে যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে হাসপাতাল মাঠে শতাধিক রোগী খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসদের রোগীদের দেখভাল করতে দেখা গেছে। আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি যুগান্তরকে বলেন, আগুন লাগার পরপর কোলে করে রোগীকে হাসপাতালের মাঠে নিয়ে আসি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরে হাসপাতালে নিয়ে যাব।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগুনে কারও হতাহতের খবর আমরা পাইনি। যত রোগী ছিলেন, তাদের সবাইকে বের করে আনা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সাংবাদিকদের জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হাসপাতালের সব রোগীকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্ঘাটনে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমারকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, হাসপাতালে ১১০০ থেকে ১২০০ রোগী ছিলেন। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আমরা যোগাযোগ করেছি। তারা পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। এখন মাঠে কিছু রোগী আছেন যাদের জরুরিভিত্তিতে অন্য হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন হয়নি, তাদের সেবা দেয়া হচ্ছে। এমন রোগীর সংখ্যা ২০০ থেকে ৩০০ বা আরও কম হতে পারে। যেহেতু সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরেজে আগুন লেগেছিল। তাই তাদের জন্য অন্য স্থান থেকে ওষুধ দেয়া হয়েছে। ডাক্তার ও নার্সরা সেখানে কাজ করছেন। এমনকি ইন্টার্নি শিক্ষার্থীরাও কাজ করছেন। আগুন একেবারে নিয়ন্ত্রণে। ফায়ার সার্ভিস শেষ পর্যায়ের নিরাপত্তা দিচ্ছে। গাইনি বিভাগ বা আশপাশের কয়েকটি ওয়ার্ড ছাড়া বাকি ওয়ার্ডে রাতের মধ্যে মাঠে থাকা রোগী ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারব বলে আমরা আশা করছি। আমাদের যে পরিমাণ ওষুধ আছে তা দিয়ে রাতসহ কালকের দিন কেটে যাবে। আবার রোগীর স্বজনদেরও জানিয়ে দিচ্ছি তারা যেন প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করে নেন।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার জানান, বিকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর থেকে ১৫টি ইউনিট পাঠানো হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান। পরে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয়।

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, আগুন নেভাতে পানি সংকটে পড়েছিল ফায়ার সার্ভিস। তবে পরে তা কেটে যায়। নিচ তলার স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলে, পরে ধোঁয়া ওপরে উঠে যায়। স্টোরে অনেকগুলো কক্ষ থাকায় সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে আলী আহম্মেদ বলেন, ‘ভেতরে ছোট ছোট আগুন আছে, স্মোক আছে। তবে আগুনটা বড় হচ্ছে না। আমরা এখন রুমগুলো চেক করে দেখছি।’ রাত ৮টা পর্যন্ত ভবনের বিভিন্ন তলায় তল্লাশি করে হতাহত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, রোগীসহ সবাইকে নামিয়ে আনা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিাবর সন্ধ্যায় হঠাৎ হাসপাতালের নতুন ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে যায়। ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সাধারণ মানুষ আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রোগীদের স্বজনদের সহযোগিতায় নিচে নামিয়ে আনেন।


এ জাতীয় আরো খবর
ThemeCreated By ThemesDealer.Com