Logo
ব্রেকিং :
আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন নাগরপুরে সহবতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে পরকিয়ার জেরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসে বিশেষ সংকেতে চলে ঘুষ বানিজ্য টাঙ্গাইল পৌর ভবনের সামনে স্থাপিত জাতির জনকের ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার এক বছরেও তা প্রতিস্থাপন হয়নি মির্জাপুরে ফাঁড়ির হাজতখানায় আটক ব্যক্তির মৃত্যু টাঙ্গাইলে ২৪ জাতের কুকুরের খামার, আমদানির চেয়ে ৫০ ভাগ সাশ্রয় মানিকগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের কোপের শিকার যুবক সৈয়দপুরে বেশি দামে চিনি বিক্রি করায়   দুই দোকানে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা ঘিওরে ব্র্যাকের উদ্যোগে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

চৌহালীতে স্কুল আছে সড়ক নেই শিক্ষার্থীদের কষ্ট পাহাড় সমান কেউ করে না সমাধান

রিপোর্টার / ১৬ বার
আপডেট মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

মাহমুদুল হাসান, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ):১৯ ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার।
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় মিটুয়ানি বিসিএস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,মিটুয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,খাষপুকুরিয়া সরকারি সপ্রবি, বির মাসুকা সপ্রাবিসহ অর্ধশতাদিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীর। সড়ক পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে গোরস্থান, বাড়ির উপর,উঠান, দো-পায়া রাস্তা ও জমির আইল(বাতর)দিয়ে বা বালু ও নীচু পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে সবাইকে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুমে ওই সকল স্কুল,মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন বাড়িতে যাতায়াত করতে হয় নৌকা এবং ভেলায় চড়ে। মুলত রাস্তা না রেখে অপরিকল্পিতভাবে জমি ও বিলের মধ্যে টিনসেটঘর এবং ভবন নির্মাণের ফলে এমন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীসহ গনমানুষকে।
জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে বা পরে বিভিন্ন সালে স্থাপিত হয় নানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,এর মধ্যে মিটুয়ানি বিসিএস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়,কোদালিয়া বালিকা বিদ্যালয়,পশ্চিম কোদালিয়া সপ্রাবি, খাষপুকুরিয়া সরকারি সপ্রবি, মিটুয়ানি সপ্রাবিসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে অন্যান্ন স্থানে ঘর ও ভবন নির্মান করে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অথচ রাস্তা নেই ফলে বর্ষা মৌসুমে ভেলা, নৌকা, কাদা-পানি ও শুকনো মৌসুমে বালি ও কবরস্থানের উপর দিয়ে সরকারি-বেসরকারি,কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলাচল করে শিশুসহ স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ জনগন। ১৯৭৩ সালে সরকারি করণ হওয়ার পর ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেখানে সেমিপাকা, টিনসেট,টিনের ঘর ও নতুন ভবন নির্মাণ করা হয় পরিত্যক্তা ও নীচু জমিতে। এতে শিক্ষার্থীসহ জনদুভোগ মানুষের। কিন্তু স্কুলে যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করা হয়নি রাস্তা। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও লোকজনের কষ্ট পাহাড় সমান, কেউ করে না সমাধান সরেজমিন। এক সময় প্রাচীন স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক। কিন্তু দুর্ভোগ ও দুরযোগের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেতে শুরু করেছে। অভিভাবক কালু, ইউসুব,মজিবর,সাইফুলসহ অনেকে জানান, ‘বাড়ির পাশে এতো সুন্দর সুন্দর ঘর, বিল্ডিং (স্কুল) হলো কিন্তু রাস্তা হলো না। কোথাও গোরস্থানের ভেতর দিয়ে আবার কোথাও বাড়ির ওপর দিয়ে বা নীচু জমির আইল ও বাতর দিয়ে আসা-যাওয়া করতে খুব খারাপ লাগে, বিবেকে বাধা দেয়। কিন্তু কি করবো রাস্তা থাকলে তো আর এভাবে আসতে হতো না। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক চাই,শহিদ মিনার চাই, শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি চাই,তা হলেই সারা দেশের ন্যায় চৌহালী হবে ডিজিটাল, এতে বি ান ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। এমনটি প্রত্যাশা গণমানুষের। শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থী সালমা, মাসুদাসহ অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, সড়ক না থাকায় আমাদের চলাচলে কষ্ট আকাশ সমান,সমাধানের লক্ষন নেই। বর্ষা ও বষ্টি হলে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে,দেখার কেউ নেই। বির মাসুকা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফারুক বলেন,আমি এ স্কুলে যোগদান করার পর স্কুলের জন্য জমি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কড কবলায় রেখে ঘর নির্মান করেছি,রাস্তা নেই। সড়কের পশ্চিম পাশে রাস্তাবিহীন নীচু জমিতে টিনের ঘর নির্মান করলেও ব্যবহার অনুপযোগি থাকায় এখনো বুজে নেয়া হয়নি। কারন রাস্তা নেই বর্ষা বা বৃষ্টি হলেই ঘর ও জমি পানির নীচে তলিয়ে যায়। মিটুয়ানি বি সি এস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মস্তফা বলেন, অনেক দিন ধরে শিক্ষকতা করেছি কিন্তু এমন পরিস্থিতির শিকার কখনও হইনি। মৃত মানুষের কবরের ওপর দিয়ে স্কুল ও জমির আইল বা বাড়ির ওপর দিয়ে আসতে হয়। কাদা-পানি নৌকা ও ভেলায় পার হতে হয়, এটা ভাবতেও খারাপ লাগে। স্কুল আছে রাস্তা নেই ফলে প্রায় ৬ থেকে ৭ শত শিক্ষাথী ও শিক্ষকদের শিক্ষা অঙ্গনে আসা যাওয়ায় দুর্ভোগ লাগবের জন্য সড়ক চাই। উপজেলার প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগে সড়ক হলে বিঙ্গন ও প্রযুক্তির প্রসার আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবাইদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেউ কখনও জানায়নি,তবে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়,শিক্ষা অঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে সড়ক নির্মান প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায় উপজেরার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কারি ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের কষ্ট অথচ সড়ক নির্মানের উদ্যোগ নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তালিব জানান, চৌহালী একটি নদী বেষ্টিত এলাকা এখানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ী ও বাজার রয়েছে,অথচ প্রয়োজনীয় রাস্তা বা সড়ক নেই। সড়ক না থাকায় কোমলমতিসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসিদের যাতায়াতের রাস্তা ও সড়ক দরকার। চৌহালী বাসির কষ্ট আকাশ সমান তাদের সমস্যা নিরাসনে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্য সড়ক বড় প্রয়োজন। আমি উপজেলার নতুনে দায়িত্ব নিয়েছি তবে পুরো উপজেলা ও শিক্ষা অঙ্গন এখনো সরেজমিনে ঘুরে দেখিনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগতসহ দ্রুত সমস্য বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলাচলের জন্য সড়ক নির্মান করা হলে প্রধানমন্ত্রীন উন্নয়নে গ্রাম হবে শহর।###

কালের কাগজ/প্রতিনিধি/জা.উ.ভি


এ জাতীয় আরো খবর
ThemeCreated By ThemesDealer.Com