Logo
নোটিসঃ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : আলহাজ্ব এ.এম নাঈমূর রহমান দূর্জয় ,সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জালাল উদ্দিন ভিকু,সহ-মফস্বল সম্পাদক মো: জাহিদ হাসান হৃদয়

পাইলট অভিনন্দনের অপেক্ষায় ওয়াগা সীমান্তে বাবা-মা

রিপোর্টার / ২৫ বার
আপডেট শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৯

 

কালের কাগজ ডেস্ক ০১ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার।

 

বহু নাটকীয়তার পর দেশে ফিরছেন পাকিস্তানে আটক ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন।ছেলেকে গ্রহণ করতে ওয়াগা সীমান্তে অপেক্ষা করছেন তার বাবা-মা।

বৃহস্পতিবার সকালেই দিল্লি পৌঁছান অভিনন্দনের বাবা ভারতের বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এস বর্তমান এবং মা শোভা বর্তমান । সেখান থেকে দুপুরে ওয়াগা সীমান্তে পৌছান তারা।

ছেলে মুক্তি পাবে এই সংবাদে বৃহস্পতিবারই বাবা-মা চেন্নাই থেকে দিল্লি রওনা হন। বিমানে যাত্রীরা এদিন উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি শুভেচ্ছা জানান অভিনন্দনের বাবা-মাকে। সঙ্গে ছিল শুভেচ্ছা বার্তাও। এতে স্বাভাবিকভাবেই খুশি এস বর্তমান ও শোভা বর্তমানও। তাঁদের বিমানটি রাত ১টা নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বুধবার এক বার্তায় তিনি বলেন, ‌’অভি জীবিত রয়েছে, আহত হয়নি, মনও চাঙ্গা রয়েছে! কী দুর্দান্ত সাহস নিয়ে কথা বলছনে একবার দেখুন… সত্যিকারের সৈনিক … আমরা ওর জন্য গর্বিত।’

এদিকে ফেরত আনতে ভারতীয় বিমানবাহিনী বিমান পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তান।পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রস্তাব খারিজ করে পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে সড়ক পথে ফেরানো হবে অভিনন্দনকে।

উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ভারতে ফিরিয়ে আনার রাস্তা ছিল দুটি। তার মধ্যে একটি ওয়াগা আর অন্যটি আকাশপথ। ভারত চায়নি ওয়াগা দিয়ে ফিরুক অভিনন্দন। ভিড় এবং সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে আকাশপথে তাঁকে ফেরাতে চেয়েছিল ভারত। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি পাকিস্তান।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, অভিনন্দন বর্তমানকে যাতে ছেড়ে দেয়া হয় সেজন্য ইসলামাবাদের উপর চাপ তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এই অধ্যায়ের শুরু থেকেই ভারতের লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানকে চাপে ফেলা।তবে ভারত সরকারের তরফে এই খবরের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।তবে আমেরিকার ভূমিকা যে ছিল সেটা নিয়ে সন্দেহের তেমন কোনো অবকাশ নেই।

এদিকে অভিনন্দনকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে তাকে লাহোরে নেয়া হচ্ছে। ইসলামাবাদ থেকে লাহোর হয়ে ওয়াগাহ-আতারি সীমান্তে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই তাকে মুক্তি দেয়া হবে।

ইতিমধ্যে ভারতের সীমান্ত এলাকায় অভিনন্দনকে বরণ করে নিতে উৎসবের ফোয়ারা শুরু হয়ে গেছে। ভারতের তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন এই আনন্দ উৎসবে।

দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আটক ভারতের পাইলটকে মুক্তি দিচ্ছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এমন ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাইলটকে মুক্তির কারণ হিসেবে ইমরান খান বলেছেন, শান্তির বার্তা দিতেই ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। তবে তিনি এও হুশিয়ারি দেন যে, পাইলটের মুক্তির সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের দুর্বলতা ভাববেন না।

নিউজ এইটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সন্ধ্যায় ওয়াগা সীমান্তে পাইলট অভিনন্দনকে গ্রহণ করবেন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা।

ছেলেকে গ্রহণ করতে বৃহস্পতিবার দিল্লি পৌঁছেছেন অভিনন্দনের বাবা-মা। অভিনন্দনের বাবা ভারতের বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতীয় কমান্ডার অভিনন্দনকে ফেরালে যদি পাক-ভারত উত্তেজনা প্রশমিত হয়, তাতে আপত্তি নেই পাকিস্তানের। এ ব্যাপারে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলতে চান ইমরান খান।

মঙ্গলবার ভারতের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান থেকে গোলাবর্ষণ করে। পর দিন সকালে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও এক পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, উত্তেজনা নিরসনে ভূমিকা রাখলে আমরা ভারতীয় পাইলটকে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।

পরে পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, তিনি এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আমি তাকে বলেছি যে, আমরা কোনো উত্তেজনা চাই না। তবে আমাদের এই ইচ্ছাকে দুর্বলতা ভাববেন না।

এর পর ইমরান খান বলেন, আমাদের কাছে একজন ভারতীয় পাইলট রয়েছেন। শান্তির নিদর্শন হিসেবে তাকে আমরা মুক্তি দিচ্ছি। সেই সময় পার্লামেন্ট সদস্যরাও তাকে সমর্থন দেন।

এদিকে অভিনন্দনকে আটক করার পর দুটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ পায়। এতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বলেন, আমরা দুই প্রতিবেশী শত্রু রাষ্ট্র হলেও পাকিস্তান সেনারা আমাকে আটকের পর চিকিৎসা দিয়েছেন। সম্মান করেছেন। পাক সেনারা খুবই ভদ্রলোক। আমি মনে করি পাকিস্তান সেনাদের কাছ থেকে আমাদের ব্যবহার শেখার আছে।

অভিনন্দন আরও বলেন, যারা পাকিস্তান সেনাদের বদনাম করেন তারা না জেনে করেন।

এ সময় পাকিস্তান সেনাদের এক সিনিয়র অফিসার বলেন, শত্রুদের প্রতি সদয় হওয়া, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা আল্লাহর রাসুলের নির্দেশ। পাকিস্তানের মুসলমান রাসুল (স.)-এর নির্দেশ পালন করছে মাত্র।

এছাড়া গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ভারতের ৪৪ সেনা নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে। এর পরই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com